বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারী সানোফি বাংলাদেশ লিমিটেডের ৫৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রির ঘোষণায় কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনায় পড়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীরা। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধির সঙ্গে একাধিক বৈঠকে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষতিপূরণ আদায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সানোফি বাংলাদেশ কর্মকর্তা কল্যাণ পরিষদ। রবিবার (২৭ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এই দাবি জানান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সানোফি বাংলাদেশ লি. বাংলাদেশে তাদের শেয়ার বিক্রির ব্যাপারে গত এক মাস ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে গত ১৪ অক্টোবর কোম্পানির কান্ট্রি চেয়ার রাম প্রসাদ ভাট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুইনউদ্দিন মজুমদার বাংলাদেশ থেকে কোম্পানির ৫৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার ব্যাপারে জানান। সানোফি বাংলাদেশ লি. এর ৪৫ শতাংশ শেয়ার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআইসি)।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে যেকোনও বহুজাতিক কোম্পানি ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া/শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হঠাৎ করে চাকরিচ্যুত হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রেওয়াজ চলে আসছে। কিন্তু সানোফির ক্ষেত্রে আমাদের কান্ট্রি চেয়ার রাম প্রসাদ ভাট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুইন উদ্দিন মজুমদার ও কোম্পানির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার যোগসাজসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঠকানোর জন্য শেয়ার বিক্রির মতো প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে, যা দুরভিসন্ধিমূলক ও ব্যক্তি স্বার্থ সংরক্ষণের পাঁয়তারা বলে আমরা মনে করি।
বক্তারা বলেন, কোম্পানির এক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর দেওয়া ক্ষতিপূরণ ফাইল নিয়ে কোনও ধরনের আলোচনা না করার প্রতিবাদে গত ২১ অক্টোবর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটেতে আমরা সংবাদ সম্মেলনে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম । কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমাদের ন্যায্য দাবি- প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে কোনও ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় আমরা আজ এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছি।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে লাভজনক কোম্পানি সানোফি বাংলাদেশে থাকার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি, ক্ষতিপূরণ অনতিবিলম্বে বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনায় বসে একটি ফলপ্রসু সমাধানের মাধ্যমে কোম্পানির স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার অনুরোধ এবং আগামী ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রদান করছি। অন্যথায় আগামী ৩১ অক্টোবর সানোফির প্রধান কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রতীকী অনশন অনুষ্ঠিত হবে। সানোফি বাংলাদেশের এক হাজার পরিবারের ন্যায্য দাবি আদায়ে আমরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মানবন্ধনে পরিষদের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব কুমার চক্রবর্তীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।








