ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ভাতিজা ওমর মোহাম্মদ ভাইকে আসামি করে দুটি মামলা দায়ের করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। সোমবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এই মামলা (নম্বর ৩৪ ও ৩৫) দুটি করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (এডি) মো. খোরশিদ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘রবিবার গুলশান-২-এ আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে একটি মিনি বার, একটি বিদেশি মদের গোডাউন, বিপুল পরিমাণে মদ, সিসা, গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই বাসার দুজন কেয়ারটেকারকে আটক করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের গুলশান জোনের পরিদর্শক এস এম শামসুল কবির বাদী হয়ে একটি মামলা এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান বাদী হয়ে অপর একটি মামলা দায়ের করেন। দুই মামলায় আজিজের ভাতিজা ওমর মোহাম্মদ ভাই এবং ওই বাড়ির দুই কেয়ারকেটার নবীন ও পারভেজকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে এই মামলায় আসামি করা হয়।’
অধিদফতরের এই কর্মকর্তা জানান, আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বাসার টপফ্লোরে থাকা মিনি বার থেকে ক্যাসিনো পরিচালনার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে গুশলান থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। ক্যাসিনোর বিষয়টি তারা তদন্ত করবে।
উল্লেখ্য, রবিবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত গুলশান ২-এর ৫৭ নম্বর রোডের ১১/এ ও বি নম্বরে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। অভিযানকালে ভবনের টপফ্লোরে একটি মিনি বারের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি, চার কেজি সিসা (দুই প্যাকেট) ও সেবনের সরঞ্জাম, ৩৮২ বোতল বিভিন্ন বিদেশি ব্র্যান্ডের মদ, দুইশ’ গ্রাম গাঁজা ও ২৪ ক্যান বিয়ার জব্দ করা হয়। এছাড়াও ওই ভবনের তৃতীয়তলায় আজিজের ছোট ভাই রাজা মোহাম্মদ ভাইয়ের বাসা থেকে ১১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও ভবনের দুজন কেয়ারটেকার নবীন ও পারভেজকে আটক করে অধিদফতরের কর্মকর্তারা। তবে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ভাতিজা ওমর মোহাম্মদ ভাই অভিযানের আগেই বাসা থেকে পালিয়ে যান।








