মুক্তিযোদ্ধার নামে সড়কের নামকরণে জোর দিয়েছিলেন খোকা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৪ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৩৯আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৩০

সাদেক হোসেন খোকা (ফাইল ফটো) সাদেক হোসেন খোকা। অখণ্ড ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী। কিন্তু সব পরিচয় ছাপিয়ে খোকা খ্যাতিমান ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক গেরিলা যুদ্ধ করেছেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ছিল তার। তাই মেয়র থাকাকালে ঢাকার অনেকগুলো সড়কের নাম মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করেন। খোকার ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য জানা গেছে।
যদিও তারা জানিয়েছেন, মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সময় থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়কের নামকরণ শুরু হয়নি। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমল থেকে শুরু হয়ে মির্জা আব্বাস ও মোহাম্মদ হানিফও মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়কের নামকরণের ধারাবাহিকতা রেখেছিলেন। এই উদ্যোগটির বেশি বিস্তৃতি ঘটান সাদেক হোসেন খোকা। সেই ধারাবাহিকতা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে আজও চলমান রয়েছে।
জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মূলত ঢাকার সড়কগুলোর নাম মুক্তিযোদ্ধাদের নামে রাখার উদ্যোগটি এরশাদ সরকারের সময়ে শুরু হয়। এরপর মেয়র মোহাম্মদ হানিফের সময়েও মুক্তিযোদ্ধাদের নামে অনেক সড়কের নামকরণ হয়েছে। সাদেক হোসেন খোকার সময়ে সেটি বিস্তৃতি লাভ করে।’
রাশেদ খান মেনন সড়ক সাদেক হোসেন খোকার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, বিশিষ্ট গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর বলেন, ‘সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন সর্বজনশ্রদ্ধেয় মেয়র। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তার ছিল অগাধ ভালোবাসা। খোকা বিএনপির মেয়র হলেও অন্য দলের কোনও মুক্তিযোদ্ধা যদি তার কাছে সড়কের নামকরণের জন্য যেতেন সঙ্গে সঙ্গে করে দিতেন। যার উদাহরণ হচ্ছে রাশেদ খান মেনন সড়ক, কমরেড ফরহাদ সড়ক। তাদের নামে সড়কের নামকরণ করেছিলেন সাদেক হোসেন খোকা। এছাড়া কোনও মুক্তিযোদ্ধার সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তার ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান দিয়ে সহযোগিতা করতেন।’
অবিভক্ত সিটি করপোরেশনের সাবেক একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়কের নামকরণের জন্য বেশি জোর দিয়েছেন সাদেক হোসেন খোকা। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধাদের নামে অনেক সড়কের নামকরণ করেছিলেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধারা তার কাছে কখনও অসম্মানিত হননি।’
মহান মুক্তিযুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলামোটর থেকে মগবাজার মোড় পর্যন্ত সড়কের নাম ‘রাশেদ খান মেনন সড়ক’ এবং মালিবাগ মোড় থেকে কাকরাইল পর্যন্ত সড়কের নাম ‘বীর উত্তম শামসুল আলম সড়ক’ করা হয়েছে। ২০০৮ সালের ৯ অক্টোবর সড়ক দু’টির নামফলক উদ্বোধন করেন তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা।
একইভাবে শহীদ মতিউর পার্কের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত সড়কটির নাম ‘বীর উত্তম আব্দুস সালেক চৌধুরী সড়ক’ করা হয়েছে। ২০১০ সালের ২২ ডিসেম্বর সড়কটির নামফলক উদ্বোধন করেন তিনি। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের নামে আরও বহু সড়কের নামকরণ করেছেন সদ্য প্রয়াত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা।

 

/এসএস/ওআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম