দেশে সমতলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ‘দলিত ও সমতলের আদিবাসীর মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১৯’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর ২০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। গতবছর এ সংখ্যা ছিল ১১।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলেন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যাক্টিভিজম ও হেকস ইপারের সহযোগিতায় ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম এটি প্রকাশ করে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, ‘চলতি বছর সমতলের আদিবাসী ও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষদের বিরুদ্ধে ৪১টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মামলা হয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে।’
হত্যা, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা, বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা, জমি দখল, অস্পৃশ্যতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিপীড়নসহ অপহরণ ইত্যাদি নানা ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আদালতের মাধ্যমে জামিন পেয়ে অনেক অভিযুক্ত ব্যক্তি বেরিয়ে এসেছে। আর অভিযুক্তদের দ্বারা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটেছে একাধিক। সব মিলিয়ে মানবাধিকার লজ্ঘনের যেসব ঘটনা ঘটেছে তা এর আগের বছরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেন, ‘সমতলের আদিবাসী মানুষের জন্য পৃথক ভূমি কমিশনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে করা হচ্ছে। আবার বৈষম্যের হাত থেকে দলিতদের সুরক্ষা দিতে বৈষম্য বিলোপ আইনটি ছয় বছর ধরে ঝুলে আছে। কিন্তু কোনোটিতে সরকারের দৃষ্টি নেই।’
তিনি বলেন, ‘কোনও কোনও সময় পাঁচ মিনিটেই আইন পাস হয়। সেসব আইনে মুহূর্তের মধ্যে মানুষের অধিকার হরণ হয়। কিন্তু প্রান্তিক মানুষের প্রয়োজনীয় আইন ঝুলে থাকে। এসব প্রমাণ করে, অধিকারহীন মানুষের স্বার্থের বিষয়টি এখন আর সরকারের প্রাধান্যের তালিকায় নেই।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, দলিত নারী নেত্রী বনানী বিশ্বাস প্রমুখ।








