ভারতের নাগরিকপঞ্জি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) বেলা ১২টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী বলেন, ‘ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পাস হওয়ায় আমরা বাংলাদেশে বসবাসরত ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই বিল আইনে পরিণত হওয়ার ফলে বাংলাদেশে সামান্য কোনও ঘটনা ঘটলেই দেশত্যাগের প্রবণতা বাড়বে। সহজেই ভারতের নাগরিক হওয়া যাবে এই ধারণায় অধিকতর নিরাপত্তার আশায় ভারতে আশ্রয় নেওয়ার আশঙ্কা থাকবে। ফলে এক সময় এ দেশে হিন্দুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন আইনটি ধর্মীয় বিভাজনের ভিত্তিতে করায় উভয় দেশের সংখ্যালঘুরা আতঙ্কিত। একই সঙ্গে ভারতে বসবাসরত নাগরিকত্বহীন সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হবে। এতে স্বাভাবিকভাবে তারা আমাদের দেশে অনুপ্রবেশ করবে। ইতোমধ্যে কমবেশি তাদের প্রবেশ শুরু হয়েছে।’
নাগরিক বিলের কারণে ভারত ও বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের সরকারের উচিত এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া যাতে এই দেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। ভারতের নাগরিকপঞ্জি বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে পারে। ভারতের জনগণ যখন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকপঞ্জির বিরুদ্ধে সোচ্চার তখন আমরা উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না।’
সংগঠনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন আইনটি প্রতিষ্ঠা হলে সে দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানরা এ দেশে প্রবেশ করবে। দেশের হিন্দু সম্প্রদায় ভারতে যেতে পারে। এ কারণে একটি বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলাম, আছি, থাকবো। যদিও বর্তমানে বাংলাদেশের সরকার অবৈধ। তারপরও এসব বিষয় নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আমরা সব সময় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তাই ভারতের গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষে আমরা সমর্থন জানাই।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ড. সুকমল বড়ুয়া, বিজন কান্তি সরকার, তপন মজুমদার, জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু প্রমুখ।








