শিশু এমরান হত্যায় অংশ নেয় চার জন, পলাতক ২

আমানুর রহমান রনি
২৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৪৪আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩:৪৮

আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে ওয়াসিম আকরাম ও রনি  নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে শিশু এমরান হোসেন ধর্ষণ (বলাৎকার) ও হত্যায় অংশ নিয়েছে মোট চার জন। এদের মধ্যে দুজনকে গ্রেফতারের পর তারা আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তবে এখনও পলাতক রয়েছে দুই আসামি মো. জাফর ও আব্দুর রহমান। তবে অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য তদন্ত শেষ করেছে পুলিশ। শিগগিরই এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এমরান হোসেন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূরে আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুজনকে আমরা গ্রেফতার করেছি। এরসঙ্গে আরও দুজন জড়িত রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ যাচ্ছে না।’

এর আগে, ২২ আগস্ট দুপুরে বেগমগঞ্জের ছয়ানী ইউপির শরীফপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয় এমরান। ২৩ আগস্ট তার বাবা সামছুল হক বেগমগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির ভিত্তিতে পুলিশ অনুসন্ধান চালায়। ২৫ আগস্ট রাতে ছয়ানী বাজারে শহীদের পরিত্যক্ত একচালা টিনের দোকান ঘরের ভেতরে একটি প্লাস্টিকের মাছের ঝুড়ি থেকে গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় এমরানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ ১ সেপ্টেম্বর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ওয়াসিম আকরাম নামে এক তরুণকে ছয়ানী বাজার থেকে গ্রেফতার করে। পরে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ফেনী থেকে রনি নামের আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পেশায় সে পিকআপ-চালক।

ওয়াসিম আকরাম ও রনি দুজনেই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের জবানবন্দি থেকে আরও দুজনের নাম জানা যায়। তারা হলো বেগমগঞ্জ থানার লক্ষ্মণপুর গ্রামের ব্যাপারীবাড়ির বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. জাফর (২৮) এবং লক্ষ্মণপুর গ্রামের বরকন্দাজবাড়ির নুরুন্নবীর ছেলে আব্দুর রহমান (১৮)। তারা চার জনই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এমরানকে চিপস খাওয়ানোর কথা বলে শহীদের টিনের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় ওয়াসিম। সেখানে তাকে মুখচেপে পালাক্রমে ধর্ষণ করে রনি, জাফর ও আব্দুর রহমান। একপর্যায়ে শিশুটির মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়, অচেতন হয়ে যায় সে। তখন তাকে মেরে লাশ লুকিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়। এরপর এমরানের গলায় আব্দুর রহমান ও রনি রশি প্যাঁচায়। চার জন মিলে শ্বাসরোধে হত্যা করে শিশুটিকে। পরে ঘটনাস্থলে থাকা একটি প্লাস্টিকের মাছের ঝুড়িতে মৃতদেহটি লুকিয়ে রেখে চার জন বের হয়ে যায়।

ঘটনার পর চার জনই বেগমগঞ্জ এলাকায় ছিল। তবে এমরানের লাশ উদ্ধারের পর পুলিশের তৎপরতা ও গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে তারা গাঢাকা দেয়। এরমধ্যেই গ্রেফতার করা হয় ওয়াসিম ও রনিকে। তবে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় জাফর ও আব্দুর রহমান।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, জাফর ও আব্দুর রহমান নির্দিষ্ট কোনও ফোন থেকে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে না। তাই তাদের অবস্থান নির্দিষ্ট করা যাচ্ছে না। তবে তাদের আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

নিহত এমরানের বাবা সামছুল হক বলেন, ‘ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত দুজনকে গ্রেফতার করেছিল। তবে বাকিদের এখনও গ্রেফতার করা হলো না। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।’

এমরান হোসেন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূরে আলম বলেন, ‘মামলার চার্জশিট দ্রুত দেওয়া হবে। হত্যাকাণ্ডের কথা জড়িতরা স্বীকার করেছে।’

/এএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম