মিরপুর সেনানিবাসে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) জন্য একটি অফিসার্স মেস এবং ব্যাচেলর অফিসার্স কোয়ার্টার (বিওকিউ) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৮ কোটি টাকা। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মিরপুর সেনানিবাসে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) জন্য অফিসার্স মেস ও ব্যাচেলর অফিসার কোয়ার্টার্স (বিওকিউ) নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডিএসসিএসসি ও গণপূর্ত পরিদফতরের ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ শাখা। ডিসেম্বর (২০১৯) থেকে ২০২৩ সালের মার্চের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
ডিএসসিএসসি’র দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থী অফিসারদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত অবকাঠামো তৈরি ও সব বিদেশি শিক্ষার্থী অফিসারদের বাসস্থান সংকুলান করা এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়। এছাড়া, বাসস্থান সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে কোর্সে অংশ নিতে আগ্রহী বিভিন্ন দেশের অধিক সংখ্যক বিদেশি অফিসারদের কোর্সে অংশ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও পরিদর্শনে আগত ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সাময়িক অবস্থানের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করাও এর উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় প্রশিক্ষণ ও কর্মজীবনের অগ্রগতিকে সম্পৃক্ত করে চাকরির সময় প্রশিক্ষণ ও শ্রেণিকক্ষভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আলোচ্য প্রকল্পটির মাধ্যমে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
অফিসার্স মেস ও ব্যাচেলর কোয়ার্টার (বিওকিউ) নির্মাণের মধ্যে রয়েছে— বেজমেন্ট ফ্লোরসহ ১১ তলা ভবন নির্মাণ। এছাড়া, ভূমি উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, অবকাঠামো, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক, টেলি কমিউনিকেশন, অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ ও আসবাবপত্র কেনার বিষয়টিও রয়েছে প্রকল্পের কাজে।
প্রকল্পের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে বলা হয়— নিবিড় প্রশিক্ষণে উপযুক্ত আবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রকল্পটির মাধ্যমে সামরিক কর্মকর্তাদের উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও শিক্ষা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে, যা একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য চৌকষ ও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গঠনের মাধ্যমে দেশের সার্বিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুসংহতভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।








