ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে (ডিএনসিসি) বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আউয়াল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন। অপরদিকে পুরানো মামলায় কাউন্সিলর প্রার্থীদের গ্রেফতার ও ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন।
রাজধানীর গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে শনিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ জানান ইশরাক। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
ইশরাক বলেন, ‘প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে সরকারদলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে হুমকি দিচ্ছেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে বিভিন্ন মামলার সম্মুখীন হতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’
মেয়র প্রার্থী হিসেবে নিজে হুমকি পেয়েছেন কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘প্রশ্নই ওঠে না। আমাকে কে হুমকি দেবে? এখন পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণে তিনজন কাউন্সিলরকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন থেকে নির্বাচন পর্যন্ত নতুন করে কোনও পুরনো মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ যাতে না হয়, এ বিষয়ে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। যেসব কাউন্সিলর প্রার্থীরা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন, তাদের কীভাবে নিরাপত্তা দেওয়া যায়, এই বিষয়েও কথা বলেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।’
তবে অতীতেও এমন আশার বাণী শুনেছেন মন্তব্য করে ইশরাক বলেন, ‘অতীতে অভিযোগ দেওয়ার পর কমিশনের তরফ থেকে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এবার পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা আশ্বাসের বাণী শুনিয়েছেন। আমরাও আশাবাদী হতে চাই।’
পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনেক আগের মামলা পুনরুজ্জীবিত করে এখন কোনও আদেশ বা ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত হবে। তবে ফৌজদারি মামলা হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’
তিনি বলেন, ‘পুরনো মামলায় শাস্তি বা পরোয়ানা হয়ে থাকলে তফসিল ঘোষণার আগেই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। এখন পুরনো মামলায় নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা ঠিক হবে না। নির্বাচনের পর ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে যদি এমন হয় ফৌজদারি মামলা আছে, তা নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, সেটা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’
বিএনপি প্রার্থীর লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া প্রসঙ্গে আবদুল বাতেন বলেন, লিখিত অভিযোগ তারা পরীক্ষা করে দেখবেন। মামলার বিস্তারিত না দেখে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। শনিবার নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেমের কাছে তাবিথের পক্ষে এই অভিযোগ জমা দেন জুলহাস উদ্দিন।
পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আতিকুল ইসলাম আজ (শনিবার) সকালে গুলশান-১ পার্কে নির্বাচনি মঞ্চ করে মাইক এবং সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষ থেকে আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমরা অভিযোগের পক্ষে কিছু স্থিরচিত্র সংযোজন করেছি।’
চিঠিতে বলা হয়, ‘এ আইন ভঙ্গ করলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা কোনও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এই বিধিমালা লঙ্ঘনকারী প্রার্থীকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টাও করেননি। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন কখনও জনগণের আস্থা অর্জন করবে না।’
অভিযোগ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেন, ‘বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগটি পেয়েছি। ওই এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেট যিনি আছেন, তার কাছে এটি পাঠাবো, তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলবো। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’








