ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেছেন, তার ও দলের কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারণায় সরকার দলীয় সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে।পাশাপাশি প্রচারণা থেকে পুলিশ দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রবিবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। তবে ইশরাকের এসব অভিযোগ সত্য নয় বলে জানিয়েছেন পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম।
নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর একটি বিশেষ মহল ক্রমেই নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে। রবিবার সূত্রাপুর ও কোতয়ালী থানার বিভিন্ন ওয়ার্ডে আমার নির্বাচনি প্রচারণা ও গণসংযোগ কর্মসূচি ছিল। প্রচারণা চালানোর সময় পুলিশ অহেতুক কয়েকজন কর্মীকে হয়রানি করতে থাকে। সে সময় আমি সরাসরি গিয়ে হস্তক্ষেপ করায় পুলিশ নিবৃত্ত হয়। কিন্তু গণসংযোগ চালিয়ে আমি সামনে এগিয়ে গেলে পেছন থেকে ৪ জন কর্মীকে আটক করে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় কাউকে আটক করা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওয়ারী থানার অধীন বলধা গার্ডেন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৫ জন কর্মীকে ধানের শীষের পোস্টার লাগানোর সময় আটক করে পুলিশ। পরে আমি সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। এরপরই পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়। হাজারীবাগ পার্কের সামনে থেকে আমার প্রচার কাজ চালানোর সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা রিকশার গতিরোধ করে দুই জন কর্মীকে মারধর করে মাইক ও প্রচার সরঞ্জাম রেখে দেয়। একই সময় ৩৮নং ওয়ার্ডস্থিত ৩নং যোগীনগর রোডে সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থী মেহেরুন নেসা’র নির্বাচনি ক্যাম্পে হামলা চালানো হয়। হামলায় শ্রমিক দলের ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুস সালাম আহত হন।’
ইশরাক অভিযোগ করেন, ‘৬২নং ওয়ার্ডের নয়ানগর এলাকার যাত্রাবাড়ী থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইয়ামিন, ইয়াছিন ও ইমনকে ধানের শীষের পোস্টার লাগানোর কারণে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করে দুর্বৃত্তরা। কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এহসান মামদুদ, নিখিল চন্দ্র শ্রাবন ও সিরাজ ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ শেষে গোপীবাগ আসার পথে যোগীনগর এলাকায় স্থানীয় যুবলীগ কর্মীদের হামলার শিকার হয়। ২৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সাহিদা মোর্শেদের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. তামিম ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাকিবসহ অন্যরা প্রচারণা না করার হুমকি এবং তার বাসায় গিয়ে নেতা-কর্মীদের দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখে। সকাল ১১ টায় নূরফাতে আলী লেনে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ ও লাটিম মার্কার প্রচারণাকালীন সময় বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নেতৃত্বে পুলিশসহ তার নেতা-কর্মীদেরকে নিয়ে সাহিদা মোর্শেদের প্রচারণা বাঁধা দেয় এবং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতিকে লাঞ্ছিত করে।’
শনিবার সন্ধ্যায় ইশরাকের গোপীবাগের বাসার গলিতে যুবলীগের কর্মীরা মিছিল নিয়ে আসে এবং উসকালীমূলক স্লোগান দেয় বলেও অভিযোগ ধানের শীষের এই প্রার্থীর। তিনি বলেন, ‘এ সময় আমার কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আমি বাসার নিচে নেমে সকলকে শান্ত করে ভেতরে চলে যাই। পরবর্তীতে যুবলীগের কর্মীরা উসকানিমূলক স্লোগান ও বক্তব্য দিতে থাকে। সমর্থকদের ধাওয়ার মুখে যুবলীগ কর্মীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় ঢিল মেরে দু‘টি গাড়ীর গ্লাস ভাঙচুর করে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তের ইশরাক হোসেন বলেন, ‘সম্প্রতি আমার প্রতিপক্ষ মেয়র প্রার্থী সম্প্রীতির কথা বলেছেন, কিন্তু এটাই কি সম্প্রীতির নমুনা? যদি তিনি সত্যিই সম্প্রীতি চান, তাহলে আজ এখন থেকেই এধরনের হামলা বন্ধ করার উদ্যোগ নিবেন।’
ইশরাকের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘এসব অভিযোগ সত্য নয়। কারও নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে পুলিশের বাঁধা দেওয়ার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’








