খুলনার ময়ূর নদ জরিপ করে এর সীমানায় থাকা অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি এই নদের দখলদারদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আগামী দুই মাসের মধ্যে পরিবেশ মন্ত্রণালয় সচিব, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান ও খুলনার জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ৬ এপ্রিল মামলার পরবর্তী আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। খুলনা সিটি করপোরেশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এমএ গাফফার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবু ইয়াহিয়া দুলাল।
এর আগে ২০১৬ সালের ১২ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে ‘নদী দখল করে পার্কের স্থাপনা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, খুলনার ময়ূর নদ দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে লিনিয়ার পার্কের স্থাপনা। নগরের গল্লামারীতে নির্মাণাধীন পার্কটির জন্য নদের পাঁচটি স্থানে স্থাপনাগুলো গড়ে তোলা হচ্ছে।
পরে প্রতিবেদনটি সংযুক্ত করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে (এইচআরপিবি) আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৬ সালের ১৯ জুলাই হাইকোর্ট রুল দিয়ে ময়ূর নদে স্থাপনা নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে কমিটি গঠন করে ময়ূর নদের সংশ্লিষ্ট এলাকা জরিপ করে প্রতিবেদন (দখল, মাটি ভরাট ও নির্মাণকাজের বিবরণসহ) দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ওইসব স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে জানিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন আদালতে প্রতিবেদন দেয়। তবে পরিদর্শন করে ময়ূর নদের সীমানায় আরও অবৈধ স্থাপনা আছে জানিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে এইচআরপিবি গত ২ ফেব্রুয়ারি সম্পূরক আবেদন করে।








