ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সভায় এই প্রথম প্রাণবন্ত ছিলেন সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় ছিল ডাকসুর চতুর্থ সভা। এর আগের একটি সভা বয়কট করে বের হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। অন্যগুলো থেকে বের হয়ে তাকে প্রাণবন্ত দেখা যায়নি। তখন তার অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবি করেও তিনি ছাত্রলীগ প্যানেলে নির্বাচিতদের বাধার মুখে পড়েছিলেন। তবে আজকের সভা থেকে বের হয়ে আগের মতো কোনও অভিযোগ না করে বরং ফলপ্রসূ আলোচনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
এদিন বিকাল ৩টায় সভা শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। প্রাণবন্ত এ সভা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। সেখান থেকে বের হয়ে হাসিমুখ নিয়ে ব্রিফিং করতে জিএস গোলাম রাব্বানীর পাশে এসে দাঁড়ান তিনি। এর আগে পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে ভিপির নাম ধরে ডেকেছেন রাব্বানী। তার ডাকার সুরেও ছিল আন্তরিকতা। এসময় দুজনকে হাসি বিনিময়সহ খানিকটা খুনসুটিও করতে দেখা যায়।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকরা নির্বাচনি ইশতেহার সম্পর্কে জানতে চাইলে ভিপি নুরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন হওয়ার পর বিভিন্ন সমন্বয়হীনতা, প্রতিকূলতা ছিল। তবে আজকে একটি প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। যেমন-ভর্তির পেমেন্ট অনলাইনের মাধ্যমে করার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা, নবীন শিক্ষার্থীদের জাঁকজমকভাবে বরণ করা হবে, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ভাস্কর্য রয়েছে সেগুলোর পাশে ইতিহাস লেখা পাদটিকা থাকবে যাতে দর্শনার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে, আমরা দীর্ঘদিন বলে আসছি হলগুলোতে যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তাদের রাজনৈতিক সংগঠন প্রভাবে খাটিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, সেক্ষেত্রে আমার দাবি ছিল যেন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা মেধার ভিত্তিতে আসন পেয়ে থাকে সেজন্য হল প্রভোস্টদের উপাচার্য নির্দেশ দেবেন। আর বিশেষ করে গুচ্ছ ভর্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্রতা রক্ষার্থে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরাও একমত হয়েছি।'
ডাকসু নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন প্রশ্ন তুলেছিল, কিন্তু দুঃখজনক ছাত্রলীগের প্যানেলের যারা ছিলেন তারা অনাগ্রহ দেখিয়েছেন।'
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে ভালো একটি সভা হয়েছে। কিন্তু, এ আলোচনা এর আগে হয়নি। আর ডাকসুতে ছাত্রলীগের প্যানেল সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাদের ২৩ জন রয়েছেন, কিন্তু, তাদের সে আন্তরিকতা পরিলক্ষিত হয়নি। সে হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনেকাংশে পূরণ হয়নি। যার কারণ হলে ক্ষমতাসীন দলের সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগের ক্যাম্পাসে একটি প্রভাব রয়েছে, সুতরাং হলে হলে জোর করে মিছিল-মিটিং করা, গেস্টরুমে নির্যাতন করা, এগুলো বন্ধ করা ছাত্রলীগের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। কিন্তু, তাদের অসহযোগিতার জন্যই তা হয়ে ওঠেনি।'
নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে সাংবাদিকরা গোলাম রাব্বানীর কাছেও জানতে চেয়েছেন। তখন তিনি বলেন, ‘সাত দিনের খাবার তো আর একদিনে খাওয়া যায় না। ডাকসু যে ২৮ বছর বন্ধ ছিল, সে ২৮ বছরের সমস্যা আমাদের কাছে এসেছে। তাই সে সমস্যার সমাধান করা এক বছরে সম্ভব নয়। তবে, অবশ্যই বলবো যে, আমরা সফল। ডাকসুর রাস্তা খুলে দিয়েছি। এক বছরে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে অনেক কাজ করেছি। ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রত্যেকটি সদস্য তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে কাজ করেছে।'
ভিপি নুরুলের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রলীগের প্যানেলের যে ২৩ জন রয়েছেন, তাদের আন্তরিকতা আছে বলেই ডাকসু সুন্দরভাবে কাজ করছে। আজকে প্রাণবন্ত এবং ফলপ্রসূ সভা হয়েছে। ছাত্রলীগের আন্তরিকতার অভাব কখনও ছিল না। উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপালে চলবে না। আমাদের হাতে আর যে দেড় মাস সময় রয়েছে যে সময়ের মধ্যে আমরা কথা দিচ্ছি, যে কাজগুলো বাকি রয়েছে সেগুলো আন্তরিকভাবে সম্পন্ন করে যাবো।'
ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ ও ব্যবসায় অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সাদ্দাম হোসেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আসিফ তালুকদার, সাহিত্য সম্পাদক মাযহারুল কবির শয়ন, পরিবহন সম্পাদক শামস-ই নোমান ও সদস্য রকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য, তানভীর হাসান সৈকত প্রমুখ।








