তরুণ লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের আড্ডায় বইমেলার প্রতি সন্ধ্যায় যে চত্বর হয়ে থাকতো প্রাণবন্ত, বইমেলার ৯দিন পেরিয়ে গেলেও সেই লিটল ম্যাগ চত্বর এখন খাঁ খাঁ করছে। বিগত বছরগুলোতে বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউজের পাশে বহেড়াতলায় লিটল ম্যাগ চত্বর স্থান পেলেও এবছর থেকে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল মেলা প্রাঙ্গণে। প্রকাশক-লেখকরা এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কেউ বলছেন আগের জায়গাতেই ভালো ছিল, আবার কেউ বলছে বড় পরিসরেই থাকা ভালো; তবে জমে উঠতে হয়তো একটু সময় লাগবে।
ব্যক্তিগত উদ্যোগে বই প্রকাশের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর। এখানে মূলত স্বতন্ত্র চিন্তাধারা প্রকাশের একটি মঞ্চ। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রতি বছরই এই লিটল ম্যাগাজিনের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয় বাংলা একাডেমির বহেড়াতলা। তবে এই প্রথমবারের মতো লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থান পেয়েছে বাংলা একাডেমির বাইরে খোলা ময়দানে। অতিরিক্ত সমাগমের আশায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সেখানে এখন নেই পাঠকের পদচারণা।
সোমবার সন্ধ্যায় বইমেলার ময়দান প্রাঙ্গণে লিটল ম্যাগ চত্বর খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হয়। সেই চত্বরটি ময়দানের কোথায় আছে, তা জানতে সাহায্য নিতে হয় বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্রের। তারপরও খুঁজে পেতে বেগ পেতে হয় কারণ চত্বরের দিকে যাওয়ার কোন দিক নির্দেশনা চোখে পড়েনি। লিটল ম্যাগ চত্বরের কাছে যেতেই দেখা গেলো চারদিকে ঘেরা রয়েছে এই চত্বর। শুধু চত্বরের সামনে একটি সাইনবোর্ড আছে ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’ লেখা। সেখানে ১৫২টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দের পাশাপাশি ৬টি উন্মুক্ত স্টলসহ ১৫৮টি লিটলম্যাগকে স্টল দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলা একাডেমি।
কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায় সেখানে জনশূন্য। বিক্রেতারা তাদের স্টলে অলস সময় পার করছেন, কেউ কেউ আবার বসে বসে মোবাইলে সময় পার করছেন। আবার অনেক স্টল খালি পড়ে আছে। কয়েকজন প্রকাশক ও সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খোলা প্রাঙ্গনে এসেও তারা সন্তুষ্ট নন। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন আগের জায়গাতেই লিটল ম্যাগ চত্বর ভালো ছিল।
এই চত্বরে লেখমালা প্রকাশনীর সহযোগী সম্পাদক তুষার প্রসুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি যত জনের সঙ্গে কথা বললাম অর্ধেক বলছে ভালো, অর্ধেক বলছে খারাপ। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে আরও কিছুদিন না গেলে বোঝা যাবে না। কারণ আমরা যে উদ্দেশ্যে চেয়েছি যে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর এদিকে হোক, তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল লেখক পাঠকরা সবাই যেহেতু এদিকে আসে, তাই এখানেই যেন এটা থাকে। বাংলা একাডেমি এটা করেছে, কিন্তু দোলাচলে চলছে। কেননা এখন পর্যন্ত ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এর মানে আবার এই না যে সাড়া পাওয়া যাবে না। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’
এই চত্বরে অবস্থান করছিলেন লেখিকা নাহার আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের ঐতিহ্য যেটা ছিল, সেটা বাংলা একাডেমির ভেতরেই ছিল। বাংলা একাডেমির ভেতরেই থাকলে মনে হয় লিটল ম্যাগের ঐতিহ্য বজায় থাকতো। ধীরে ধীরে হয়তো হবে, হয়তো সামনের বছর জমজমাট হবে। অনেকেই তো জানে না লিটল ম্যাগ এখন কোথায়।’
কাচামাটির সম্পাদক আতিক আজিজ বলেন, ‘আমার মতে লিটল ম্যাগের ঐতিহ্য আমরা হারিয়েছি। এটা বাংলা একেডেমির ভেতরেই ভালো ছিল। এখানে দর্শক-পাঠক যারা আসছেন, তাদের একটি বড় অংশ কিন্তু বাংলা একাডেমির ভেতরে প্রবেশ করতেন। কিন্তু, এখানে আমরা দেখতে পারছি যে ৫ শতাংশ লোকও প্রবেশ করছে না ‘
বড় পরিসরে আসার সুবিধা আছে উল্লেখ করে সন্ধ্যা পত্রিকার সম্পাদক কিং সউদ বলেন, ‘এই জায়গার ডেকোরেশন আরেকটু ভালো করা যেত। লাইট আরও বেশি দেওয়া যেত। রাস্তার সাইড ঘেঁষে করলে আর প্রচার না হওয়ার ফলে পাঠক সংখ্যা কম আছে। ভেতরের জায়গাটা সম্পর্কে মানুষ জানতো। কিন্তু, এই জায়গার বিষয়ে অনেকেই জানে না। আবার চারিদিকে কোনও নির্দেশনা চিহ্নও নেই।’








