তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাত্রাবাড়ীর গোবিন্দপুর এলাকায় মো. ইমন (১৮) নামে এক পোশাক শ্রমিককে খুন করা হয়েছে। হত্যার সঙ্গে জড়িত জুরাইনের উঠতি তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা আদালতে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
যাত্রাবাড়ীর গ্রামীণ গার্মেন্টসে দর্জির কাজ করতো ইমন। ২৫ ফেব্রুয়ারি পোশাক কারখানা থেকে বাবার সঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে যাওয়ার সময় ৫/৭ জন সন্ত্রাসী গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তাদের গতিরোধ করে। এরপর ছুরিকাঘাত করে ইমনকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
ইমনের বাবা আবু বক্কর বলেন, ‘আমি দর্জির কাজ করি। ছেলেও আমার সঙ্গে দর্জির কাজ করতো। আমি ২৫ ফেব্রুয়ারি বেলা ২টায় কারখানা থেকে হেঁটে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য বাসায় যাচ্ছিলাম। ইমন আমার সামনে হাঁটতেছিল। যাত্রাবাড়ীর গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এলে কয়েকটা ছেলে ইমনের পথ আটকায় ও মারতে থাকে। আমি সামনে এগিয়ে গেলে তিনজন আমাকে ধরে ফেলে। একজন গলাটিপে ধরে, আর দু'জন হাত ধরে। তখন ইমন পালিয়ে যেতে পারতো, কিন্তু আমাকে ছাড়াতে এলে তখন ওদের একজন ইমনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এরপর তারা পালিয়ে যায়।’
ইমনের বাবার গলা টিপে ধরায় ঘাতকদের আঙুলের ও নখের আচড় দেখা গেছে। তিনি গলায় মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন।
সন্ত্রাসীরা ইমনকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে গেলে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ইমনের ময়নাতদন্ত শেষ করে ২৬ ফেব্রুয়ারি লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। ইমনকে মুগদা কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ইমনকে হত্যার পেছনে মামুন নামে জুরাইনের এক স্থানীয় উঠতি সন্ত্রাসী জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইমনের বাবা বলেন, ‘গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ইমনের গায়ে মামুন সাইকেল তুলে দেয়। ইমন ঘটনার প্রতিবাদ করে। তারপর ২৫ ফেব্রুয়ারি পূর্বপরিকল্পিতভাবে মামুনের ছেলেরা হামলা করে। হামলায় অনিক, নয়ন, সাইদুল, জিহাদ, রাজু ও রুবেলসহ কয়েকজন অংশ নেয়। তারা আমার ছেলেকে খুন করেছে।’
ঘটনার পর ইমনের বাবা যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলো অনিক, নয়ন, জিহাদ, রাজু ও রুবেল। মামলায় আরও দুই-তিন জনকে অজ্ঞাত দেখানো হয়েছে। এদের মধ্যে নয়ন, অনিক ও জিহাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
তিনজন আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছে, ‘২৩ ফেব্রুয়ারি মামুন ইমনের গায়ে সাইকেল উঠিয়ে দেয়। তখন মামুনকে মারধর করে ইমন। বিষয়টি মামুন তার গ্রুপের সবাইকে জানায়। এরপর তারা ২৫ ফেব্রুয়ারি সংগঠিত হয়ে ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে ইমন আবার রাজুকে মারধর করে। তখন রাজুর ভাই নয়ন ইমনকে ছুরিকাঘাত করে।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তিনজনকে আমরা গ্রেফতার করেছি। তারা ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। তারা বলেছে হত্যা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। তাদের দাবি রাজুকে ইমন আগে ছুরি মারে, তখন রাজুর ভাই নয়নও ইমনকে ছুরি মারে। তারা আদালতে এই বক্তব্য দিয়েছে।’
ইমন আগে ছুরি মারার বিষয়ে জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত তার বাবা আবু বক্কর বলেন, ‘ইমনকে ছুরি মারতে এসেই নয়নের আঙুলে ওদের ছুরির আঘাত লাগে। আমার ছেলের কাছে কোনও ছুরি ছিল না। এগুলো ওদের বানানো কথা।’
তবে মামলার এজাহারে মূল পরিকল্পনাকারী মামুনের নাম নেই। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনাস্থলে মামুন ছিল না বলে তার নাম নেই। তবে তদন্তে তার নাম আসছে। অভিযোগপত্রে তার নাম আসবে।’
এজাহারভুক্ত আসামি রাজু ও রুবেল এখনও পলাতক, তাদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তদন্ত কর্মকর্তা শরীফুল। আসামিদের গ্রেফতার করে দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।








