জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, চীন থেকে আসা ব্যক্তিদেরই কেবল স্ক্রিনিং করা হচ্ছে—গণমাধ্যমে আসা এমন খবর সঠিক নয়। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। হয়তো চীনা রাষ্ট্রদূতের কাছে ভুল তথ্য যেতে পারে, তিনি ভুলবশত বলতে পারেন। তবে এ ব্যাপারে আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে তাদের প্রকৃত তথ্য জানানো হবে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর আইইডিসিআরে নভেল করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, গত ২১ জানুয়ারি থেকে প্রথমে চীন থেকে আসা বিমানগুলোকে স্ক্রিনিং করা হচ্ছিল। যদিও সেখানে কেবল চীনা নাগরিকরাই ছিলেন না, চীন থেকে আসা সবাইকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। পরে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে যখন লোকাল ট্রান্সমিশন পাওয়া গেলো তখন স্থল, সমুদ্র ও বিমান—সব বন্দরসহ সব যানবাহনের যাত্রীদের স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সাড়ে চার লাখের বেশি যাত্রীকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।
তিনি জানান, মোংলা বন্দরে একটি জাহাজের তিনজন যাত্রীর মধ্যে করোনার লক্ষণ-উপসর্গ রয়েছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে তাদের থেকে নমুনা সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। তবে জাহাজটি গভীর সমুদ্রে রাখা হয়েছে। পুরো বিষয়টি ইনভেস্টিগেশন করে তথ্য জানাতে পারবেন বলে জানান তিনি।
তবে এরই মধ্যে মোংলা বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার ফকর উদ্দিন জানিয়েছেন, জাহাজটি করোনামুক্ত।
অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সচেতনতারও জন্য কাজ করা হচ্ছে। কেবল দুটি আচরণগত চর্চাতেই একে প্রতিরোধ করতে পারে। সেগুলো হচ্ছে কাশি শিষ্টাচার এবং সাবানপানি দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত দেশের সংখ্যা চীনসহ ৭৭টি। নতুন করে গতকাল আরও পাঁচটি দেশ যোগ হয়েছে। মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯৩ হাজার ৯০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় যোগ হয়েছেন ২ হাজার ২২৩ জন। মারা গেছেন ৩ হাজার ১৯৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৮৬ জন।
তিনি আরও জানান, চীনে মোট রোগীর সংখ্যা ৮০ হাজার ৪২২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১২০ জন। মারা গেছেন ২ হাজার ৯৮৪ জন। চীনের বাইরে ৭৬টি দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৬৮৬ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ১০৩ জন গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সব বন্দরে থার্মাল স্ক্যানার বসানো জরুরি: চীনা রাষ্ট্রদূত
চীনের বর্তমান পরিস্থিতি উন্নতির দিকে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. মীরজাদী বলেন, তবে চীনের বাইরে প্রতিদিন নতুন দেশ ও রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত হটস্পট হিসেবে চীনের বাইরে দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, ইতালি ও জাপানে প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। চীনের বাইরে সর্বোচ্চ রোগী পাওয়া যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে রোগী ছিল ৫ হাজার ৭৬৬ জন।
আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, ইতালিতে এক বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়েছেন, তার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে বলে আমাদের জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইতালিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। তিনি এখনও হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন।
তিনি জানান, সিঙ্গাপুরের পাঁচ রোগীর মধ্যে তিনজন বাড়ি ফিরেছেন, একজন স্থিতিশীল অবস্থাতেই আছেন, যেকোনও দিন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন। আর যিনি আইসিইউতে ছিলেন তিনি এখনও সেখানে আছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৬টি কল এসেছে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. মীরজাদী তিনি বলেন, এর মধ্যে ১০৪টি কল কোভিড-১৯ সংক্রান্ত। গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাদের কারও মধ্যে কোভিড-১৯-এর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর।








