করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্তে সারাবিশ্বে বন্দরগুলোতে ব্যবহৃত হচ্ছে থার্মাল স্ক্যানার। বাংলাদেশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি স্ক্যানারের দুটিই নষ্ট। অন্যদিক চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি করে থার্মাল স্ক্যানার থাকলেও সেগুলো নষ্ট। এ দুই বিমানবন্দরে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্তের কাজ চলছে হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানারের মাধ্যমে। গত রবিবার জাতীয় রোগতত্ত্ব,রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, দেশে মোট ৭টি থার্মাল স্ক্যানার থাকলেও এর ছয়টিই বিকল। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩টির মধ্যে মাত্র একটি থার্মাল স্ক্যানার সচল রয়েছে।
জানা গেছে, করোনা, জিকা, ইবোলা ও নিপাহসহ অনেকগুলো ভাইরাস সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ হলো জ্বর। থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে কোনও স্পর্শ ছাড়াই মানুষের শরীরের তাপমাত্রা নির্ণয় করা যায়। কারও শরীরের তাপমাত্রা বেশি ধরা পড়লেই পরবর্তী পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা, তা পরীক্ষা করা হয়।
বিশ্বজুড়ে ইবোলা সংক্রমণ শুরু হলে ২০১৪ সালের নভেম্বরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি থার্মাল স্ক্যানার মেশিন বসানো হয়। তিনটি মেশিনের মধ্য একটি ভিআইপি জোনে, বাকি দুটি সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতের স্থানে বসানো হয়। তবে বিভিন্ন সময়ে এই থার্মাল স্ক্যানারগুলো বিকল হয়েছে। ২০১৬ সালে জিকা ভাইরাসের নিয়ে আতঙ্ক শুরু হলে সেসময়ও শাহজালাল বিমানবন্দরের দুটি স্ক্যানার মেশিন বিকল হয়ে পড়ে। এ কারণে তখন যাত্রীদের সাধারণ থার্মোমিটারের মাধ্যমে জ্বর মাপা হয়েছিল।
সূত্র জানায়, বর্তমানে শাহজালালের সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতের স্থানে ২টি থার্মাল স্ক্যানারের একটি নষ্ট। অন্যদিকে ভিআইপি যাত্রীদের যাতায়াতের স্থানে থাকা থার্মাল স্ক্যানারটিও নষ্ট। ভিআইপিদের হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানার দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করা যাচ্ছে। সাধারণ যাত্রীদের ১টি স্ক্যানার দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। শাহজালাল বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, একটি থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। ২ থার্মাল স্ক্যানার নষ্ট থাকায় হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানার মেশিনও ব্যবহার করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দিনে গড়ে ১২-১৫শ যাত্রী আসা যাওয়ার করেন। এ বিমানবন্দরে কয়েকটি এয়ারলাইন্স দোহা, দুবাই, চেন্নাই, মাস্কট, মদিনা, জেদ্দা, আবুধাবি, কলকাতা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এ বিমানবন্দরে ২০১৫ সালে একটি থার্মাল স্ক্যানার বসানো হয়েছিলো। গত ৭ মাসেরও বেশি সময় ধরে এ স্ক্যানার মেশিনটি নষ্ট হয়ে আছে। এ কারণে হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানার মেশিন দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগে দেওয়া হয়েছে ৫টি হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানার। বিমানবন্দরটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্যক্তিগত উদ্যোগে আরও ৫টি হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানার সংগ্রহ করেছেন। এ বিমানবন্দরে শুধু ১ জন চিকিৎসকের পদায়ন রয়েছে। সম্প্রতি করোনা ভাইরাস আতঙ্কে আরও ৫জন চিকিৎসককে সেখানে পাঠানো হয়েছে। এমনকি এ বিমানবন্দরে কোনও সন্দেহভাজন রোগী ধরা পড়লে আলাদা করে রাখার ব্যবস্থাও নেই।
শাহ আমানত বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এ জেড এ শরীফ বলেন, আমরা হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানারের মাধ্যমে যাত্রীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করি। প্রতি যাত্রীর মাথার কাছে স্ক্যানারটি ধরে তাপমাত্রা মাপা হয়। এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন কাউকে পাওয়া যায়নি।
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাত্রী পরিবহন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ বিমানবন্দরটিতে একটি থার্মাল স্ক্যানার থাকলেও সেটি নষ্ট। এ প্রসঙ্গে বিমানবন্দরটির ব্যবস্থাপক মো. হাফিজ আহমেদ বলেন, বিমানবন্দরে একটি থার্মাল স্ক্যানার ছিল, তবে সেটি নষ্ট। করোনার কারণে জেলা সিভিল সার্জেনের উদ্যোগে হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানার দিয়ে কাজ চলছে।








