রাজধানীর খিলগাঁও থানায় দায়ের একটি মামলায় ঢাকার সিএমএম আদালত কর্তৃক নোয়াখালীর মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার (ওয়ারেন্ট) কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তার যথাযথ ব্যক্তি না হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে ২ মাসের মধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ-সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহীম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব নির্দেশ দেন।
জহিরের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েও রুল জারি করেছেন আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, কারা মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন।
পরে আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৩ সালের ১২ অক্টোবর খিলগাঁও থানায় দায়ের হওয়া মামলা (নম্বর-১২(৪)/১৩) অনুসারে পুলিশ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের আহসান উল্লাহর ছেলে মোদাচ্ছের আনছারীকে গ্রেফতার করে। তবে মোদাচ্ছের তার নাম-ঠিকানা গোপন করে এবং নিজেকে নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মোহাম্মদ আব্দুল কাদেরের ছেলে মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলে পরিচয় দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায় সে এবং পালিয়ে যায়।
এদিকে ২০১৪ সালের ৮ এপ্রিল মামলার তদন্ত শেষ করে পুলিশ জহিরের বিরুদ্ধেই চার্জশিট দাখিল করে। এর ধারাবাহিকতায় জামিনে থাকা জহিরের (মূলত মোদাচ্ছের) বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
ওই পরোয়ানার পর জহির সংশ্লিষ্ট জেল কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে মূল আসামি মোদাচ্ছের আনছারীর ছবি এবং শারীরিক বর্ণনাসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর ভুল ব্যক্তি হিসেবে জহির তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।








