বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুরের অভিযোগে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সহকারী ও প্রভিসিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সিনিয়র মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট মুক্তিযুদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন।
সোমবার ( ৯ মার্চ) ঢাকার ম্যাট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমানের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। এ দিন বিচারক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
আদালতের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সহকারী রাকিব চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আগামী ১৫ মে শাহাবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’
আসামিরা হলেন—তৎকালীন প্রধান সহকারী হারুন উর রশিদ (প্রশাসনিক কর্মকর্তা), অধ্যাপক এম এ মান্নান ( তৎকালীন প্রভিসি), বাবুল ওরফে ধোপী বাবুল, তাজুল ইসলাম (ওয়ার্ড বয় মাস্টার), আখতারুজ্জামান (টেলিফোন অপারেটর), আবুল কাশেম (তৎকালীন ওয়ার্ড বয়), আব্দুল মতিন (তৎকালীন টেলিফোন অপারেটর), কবির হোসেন লস্কর, মোহাম্মদ হোসেন (তৎকালীন কুক খাদ্য বিভাগ), বিলকিছ জাহান চৌধুরী (তৎকালীন সিনিয়র নার্স), আফজাল হোসেন, জয়নাল আবেদীন (তৎকালীন গাড়ি চালক), নজরুল ইসলাম (তৎকালীন দারোয়ান), জুনুন রেজা (তৎকালীন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট), ইসমাইল হোসেন (কম্পিউটার অপারেটর), আমজাদ হোসেন (তৎকালীন গাড়ি চালক), জাহাঙ্গীর আলম জুনায়েদ (এমএলএসএস), শাইফুল ইসলাম শাহীন (তৎকালীন ওয়ার্ড বয়), আশ্রাফ আলী (তৎকালীন গার্ড), রফিকুল্লাহ (তৎকালীন সরদার), আমান উল্লাহ (তৎকালীন সরদার), মোফাজ্জল (ওয়ার্ড বয়), মোস্তফা (তৎকালীন সুইপার) ও জেড এম মামুন ওরফে বাবু (তৎকালীন ক্যাথল্যাব সহকারী)।
বাদী সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সে সময় আমি সিনিয়র মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ছিলাম। পরে চিফ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট থেকে অবসর নিই। ঘটনার দিন রাতে আমি চা খেতে হাসপাতালের নিচে আসি। এসে দেখি বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল আসামিরা ভাঙচুর করছে। প্রতিবাদ করলে আসামিরা আমিসহ স্বাধীনতার পক্ষের আরও কয়েকজনকে তারা মারধর করে।’
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ‘বাদী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) কর্মকর্তা থাকাকালীন আসামিরা ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নং গেটে ভিসির রুমের নিচতলার সামনের জাতির জনকের ম্যুরাল শাবল, কুড়াল, হাঁতুড়ি, বাঁশের লাঠি, হকিস্টিক, লোহার পাইপ ও লাথি দিয়ে ভাঙচুর করে।’








