বিশ্বজুড়ে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে। যার ফলে আগামী ১৫ মার্চ থেকে প্রকাশিত হবে না হাইকোর্ট বিভাগের মামলার দৈনন্দিন কার্যতালিকা (কজলিস্ট)। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদেশক্রমে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২ মার্চ ঢাকার তেজগাঁওয়ের গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেসের উপপরিচালক সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে একটি চিঠি দেন। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, কজলিস্ট প্রকাশের অন্যতম উপাদান পিএস প্লেট শেষ হয়ে গেছে। করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদানিকারকরা চীন থেকে পিএস প্লেট আমদানি করতে পারছেন না। এই অবস্থার অবসান হতে কতদিন সময় লাগবে তা অনুমান করা যাচ্ছে না। পিএস প্লেট সরবরাহ না হলে কজলিস্ট মুদ্রণ কাজ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।
এই প্রেক্ষাপটে আগামী ১৫ মার্চ থেকে পিএস প্লেট সরবরাহ না হওয়া পর্যন্ত সময়কালে বিজি প্রেস হাইকোর্ট বিভাগের দৈনন্দিন কার্যতালিকা ছাপাতে পারছে না। এ সময়ে অনলাইন কজলিস্ট (সুপ্রিম কোর্টের ওয়বসাইটে) ব্যবহারের অনুরোধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে কজলিস্ট ছাপাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতরের মহাপরিচালককে অনুরোধ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে সুপ্রিম কোর্টের দৈনন্দিন কার্যতালিকা প্রতিদিন কাগজে ছাপানো হয়ে আসছে। সাধারণত আগের দিন রাত ৮টার মধ্যে আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ কর্মকর্তারা পরের দিনের মামলার তালিকার খসড়া পাঠিয়ে দেন বেঞ্চ ও ডিক্রি শাখায়। সংশ্লিষ্ট শাখার তত্ত্বাবধায়ক তা সংগ্রহ করে ছাপানোর জন্য পাঠিয়ে দেন বিজি প্রেসে। প্রতিদিন ভোরে প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার কজলিস্ট ছাপা হয়। ওই কজলিস্ট সুপ্রিম কোর্ট থেকে সংগ্রহ করেন আইনজীবীরা। কজলিস্টে মামলার শ্রেণি অনুযায়ী নম্বর, সন, বাদী ও বিবাদীর নাম এবং সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারপতিদের নাম ও এখতিয়ারের বিষয়টি উল্লেখ থাকে।








