ফটো সাংবাদিক ও ‘পক্ষকাল’ ম্যাগাজিনের সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজলের সর্বশেষ অবস্থান ছিল রাজধানীর পরীবাগে। গত ১০ মার্চ সন্ধ্যা থেকে তিনি নিখোঁজ। এরপর কেটে গেছে চার দিন। নিখোঁজ কাজলের কোনও সন্ধান জানাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্বজনদের অভিযোগ, থানা পুলিশ ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনও লাভ হচ্ছে না, সন্ধান মেলেনি কাজলের।
নিখোঁজের পরদিন ১১ মার্চ চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন কাজলের স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসি নয়ন। ১৩ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে শফিকুল ইসলাম কাজলকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত দেওয়ার দাবি জানান স্বজনেরা।
চকবাজার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুদ হাওলাদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তিনি দুপুরে বাসা থেকে অফিসে যান। বিকাল ৫টা ৫৭ মিনিটে তার অবস্থান ছিল পরীবাগে। এরপর থেকে তার আর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তবে স্বজনরা পুলিশের চেষ্টার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ কাজলের নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পরেও হাতিরপুল এলাকার তার অফিসের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই বা বিশ্লেষণ করেনি পুলিশ।
সর্বশেষ শনিবার সন্ধ্যার পর পুলিশ হাতিরপুলে কাজলের অফিসে গিয়েছে। সেখানে কাজলের সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তার সর্বশেষ মুভমেন্ট সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
নিখোঁজ কাজলের ছেলে মনোরম পলক জানান, বাবার সন্ধান না পেয়ে আমি ডিবি পুলিশ, র্যাব সবার কাছে গিয়েছি। তাদের কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু কেউ কোনও সন্ধান দিতে পারছে না।
পলক বলেন, আমার বাবা গত ১০ মার্চ দুপুর তিনটায় বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ হয়নি আমাদের। বাবার সঙ্গে তার এক সহকর্মী মুজাহিদের সর্বশেষ দেখা হয় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে, হাতিরপুল বাজারে। রাত ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষার পরও যখন তিনি বাসায় ফেরেননি, তখন আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। ওই সময় থেকে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
এদিকে নিখোঁজ সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে খুঁজে বের করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। শনিবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মানুষ অপহরণ ও গোপন স্থানে আটক রেখে নির্যাতনের অভিযোগ থাকায় কাজলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা গভীর উদ্বেগজনক।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বিবৃতিতে বলেছেন, ‘কাজলের পরিবারের আশঙ্কা তাকে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি যেন নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বানও জানাই।’
উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান ও শফিকুল ইসলাম কাজলসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শেখর। শেখর ৯ মার্চ মামলা করার পর গত ১০ মার্চ থেকে নিখোঁজ রয়েছেন কাজল।








