সকাল সাড়ে ৯টা, তখনো দেখা নেই ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্যবাহী ট্রাকের। ট্রাকের দেখা পেতে আরও অন্তত ঘণ্টা দুই-এক অপেক্ষা করতে হবে। এরই মধ্যে মানুষের ভিড় বাড়ছে। করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষ অপেক্ষা করছেন ন্যায্যদামে পণ্য কিনতে। কিন্তু একটু দেরি হলেই দীর্ঘ লাইনের একেবারে পেছনে পড়তে হয়। তাই তো সিরিয়ালের জন্য তৈরি গোল বৃত্তগুলো বিভিন্ন চিহ্ন, ইট-পাথর আর স্যান্ডেল দিয়ে দখলে নিয়েছেন ক্রেতারা। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর মধ্যবাড্ডা এলাকায় এমন চিত্র দেখা যায়।
করোনাভাইরাসের প্রভাবে এরই মধ্যে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। চলছে না গণপরিবহনও। দেশজুড়ে চলছে অঘোষিত লকডাউন। এ অবস্থায় কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা এখন সঠিন সময় পার করছেন।
এ অবস্থায় টিসিবি পণ্যের দিকে ঝুঁকেছেন তারা। এ কারণেই ট্রাকের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে বাড়ছে সাধারণ মানুষের ভিড়।
বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর বাড্ডা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, টিসিবির ট্রাকের সামনে মানুষের জন্য সামাজিক দূরত্ব বাজায় রাখতে বৃত্ত করে দীর্ঘলাইন তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। তবে পণ্য কিনতে আসা ক্রেতারা তীব্র রোদ থাকায় ইট, কাঠ, পাথর, পানির বোতল, স্যান্ডেলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র রেখে সে সব বৃত্ত দখল করে পাশে অপেক্ষা করছেন। ট্রাক আসলেই যে যার জন্য দখলে নেওয়া বৃত্ততে দাঁড়াবেন।
ক্রেতাদের একজন সমীর হোসেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাসায় খাবার কমে গেছে, কাজও নেই। তাই টিসিবির ট্রাক থেকে প্রায় খাদ্যসামগ্রী কিনে থাকি। কিন্তু একটু পরে আসলেই জয়গা দখল হয়ে যায়। ট্রাকের পণ্যও শেষ হয়ে যায়। তাই আগে এসে পানির বোতল দিয়ে সবার মতো জায়গা দখল করে নিয়েছি। ট্রাক আসলে সেখানে গিয়ে দাঁড়াবো।
জেসমিন আক্তার নামে অপর এক শ্রমজীবী নারী বলেন, এক সময় টিসিবির ট্রাকের সামনে মানুষ কম হতো। এখন অনেক মানুষ আসে। দেরি হলে আর সিরিয়াল পাওয়া যায় না। তাই আগে এসে জায়গা দখল করেছি। এখন ট্রাক আসলে পণ্য কিনে বাসায় চলে যাবো।
প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্তের তথ্য জানায় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ৬০ জন। আর মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৫৭২ জন। করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার ২৬ মার্চ থেকে প্রথম দফায় ছুটি ঘোষণা করে। পরে তা ধাপে ধাপে আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এদিকে ছুটি ও করোনা আতঙ্কের কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীরা পড়েছেন বেকায়দায়। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বেতন-ভাতা দিলেও, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখনও কর্মীদের গত মাসের বেতন দেয়নি। এতে নিম্ন আয়ের মানুষেরা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছুটির কারণে অন্য পেশার মানুষদেরও আয় বন্ধ হয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
ভিডিও:








