করোনাভাইরাসের মহামারির এই সময়ে অনেক বাড়িওয়ালা ও অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা ডাক্তার ও নার্সদের নিজ নিজ বাসায় ঢুকতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকে আবার ভাড়া বাসা ছেড়ে দিতেও বলেছেন। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ডাক্তার-নার্সদের নিজ নিজ বাসার নিরাপত্তা ও বাসায় যাতায়াতে কেউ যেনো ঝামেলা করতে না পারে, সেজন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। একইসঙ্গে করোনা পজিটিভ হওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে বাসায় অবস্থানকারীদের যদি কোনও বাড়িওয়ালা বাসা ছেড়ে দিতে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিএমপি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘রোগী, ডাক্তার ও নার্সদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ আইনের ব্যত্যয় ঘটালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার অনেক এলাকায় করোনা আক্রান্ত বা করোনা উপসর্গ আছে এমন রোগী, বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার ও নার্সদেরকে বাড়িওয়ালারা বাসা ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ডাক্তার-নার্সসহ সাংবাদিকদের বাড়ি থেকে বের হওয়া ও ঢোকার নতুন নিয়ম করে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে বিষয়টি আমলে নিয়ে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ঢাকার আটটি ক্রাইম জোনের ডিসিকে মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে তিনি এই নির্দেশনা দেন তিনি।
ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিজ নিজ ফ্ল্যাটে বা বাসায় রেখেই চিকিৎসা করানো হতে পারে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা এতে বাধা দিচ্ছেন। এমনকি করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার ও নার্সদেরও তাদের নিজ নিজ ফ্ল্যাটে উঠতে বাধা দিচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ডিএমপির ৫০ থানার ওসিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘রোগী-ডাক্তার-নার্স এমন কাউকে বাসায় উঠতে কেউ বাধা দিচ্ছেন, এমন অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি অ্যাড্রেস করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা আছে। এই মহামারির সময়ে এমন অমানবিক কাজ কেউ করবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস। তারপরও কেউ যদি এমন আচরণ করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে চিকিৎসাকর্মীদের হুমকি দেওয়া বাড়িওয়ালাদের সম্পদের হিসাব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দুদক। দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, জাতির এই সংকটময় সময়ে ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড বয় এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী জীবনের মায়া ত্যাগ করে জাতির সেবায় নিয়োজিত। এদের সঙ্গে খারাপ আচরণ কিংবা কোনও ধরনের অসম্মান করা আইনগতভাবেই অপরাধ। তিনি বলেছেন, এসব নোটিশ যারা দিচ্ছেন আমরা সেগুলো নোট রাখছি, তাদের বাড়ির হিসাব আমরা গ্রহণ করবো। বাড়ি কীভাবে বানালেন তা খোঁজ করবো।








