আদার দামে কারসাজি, নিত্যপণ্যের মূল্য তালিকা সংরক্ষণ না করা, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করার অভিযোগে রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে ১৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ এক হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বাজার অভিযানে এই জরিমানা করা হয় বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালক মাসুম আরেফিন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর জানায়, প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা নিজে বুধবার ঢাকা মহানগরীতে বাজার তদারকি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য যাচাইসহ ন্যায্যমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রির কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ও দিকনির্দেশনা দেন। এছাড়া অধিদফতরের মহাপরিচালকের নির্দেশনায় পরিচালক (প্রশাসন)-এর তত্ত্বাবধানে রাজধানীর ১৬টি বাজারে (পাইকারি ও খুচরা) এ অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালক মাসুম আরেফিন জানান, ঢাকা মহানগরের শ্যামবাজার, বাবুবাজার ,কাপ্তানবাজার, শাহ আলী বাজার, কল্যাণপুর নতুন বাজার, কৃষি মার্কেট বাজার, শিয়া মসজিদ বাজার, আদাবর বাজার, মিরপুর বড়বাগ বাজার, পীরেরবাগ পাকা মসজিদ বাজার, শান্তিনগর বাজার, মালিবাগ রেলগেট বাজার, রামপুরা বাজার, উত্তর বাড্ডা বাজার, মধ্য বাড্ডা বাজার, গুদারাঘাট বাজারে তদারকিমূলক অভিযান পরিচালিত হয়। এছাড়া ঢাকার বাইরে বিভাগে উপ-পরিচালক ও জেলায় সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে ৬৫টি বাজারে অভিযান চলে। এর পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীর ১৯টি স্থানে টিসিবির ন্যায্য মূল্যের পণ্য বিক্রি (ট্রাকসেল) তদারকি করা হয়।
সংস্থার উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার জানান, ৯৭ টাকার (এলসি প্রাইস) আমদানিকৃত প্রতি কেজি আদা বিক্রেতারা বিক্রি করছিল ২৩৫ টাকায়। আমরা যখন অভিযানে যাই, তখন ২৩৫ টাকার আদা হয়ে গেলো ১২০ টাকা। এই অপরাধে শ্যামবাজার আড়তের একটি প্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ ও দুটিকে জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা আসন্ন রমজানে ও করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আদা, পেঁয়াজ, রসুন, চাল, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ম মেনে যৌক্তিক ও ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করার জন্য সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের অনুরোধ করেন।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি জানান, আদার আমদানি মূল্য সর্বোচ্চ ১০০ টাকার বেশি নয়। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয়সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় এবং যৌক্তিক মুনাফা যোগ করে আদা বিক্রি করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে কারসাজি করলে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করা হবে।’








