রাজধানীর মালিবাগের দুটি পোশাক কারখানার চার শতাধিক শ্রমিক বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে মালিবাগের চৌধুরীপাড়া আবুল হোটেলের সামনে তাহসিন ফ্যাশন ও রূপকথা ফ্যাশনের শ্রমিকরা এই বিক্ষোভ করেন। রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় এ সময় রাস্তার একপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়।
দুই মাসের বেতন বকেয়া থাকলেও মালিক প্রত্যেক শ্রমিককে দিতে চান মাত্র দুই হাজার করে টাকা। এর বেশি এই মুহূর্তে দেবেন না বলে শ্রমিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে পুলিশের আশ্বাসে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেছেন শ্রমিকরা।
তাহসিন ফ্যাশনের শ্রমিক উজ্জ্বল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'লকডাউনের পর আমাদের কারখানা বন্ধ করে দেন মালিক। এই কারখানায় ২২০ জন শ্রমিক কাজ করেন। সবারই দুই মাসের বেতনভাতা বাকি পড়েছে। কিন্তু মালিক কোনও কিছু জানান না। তারা সরাসরি জানান, বেতন এখন দিতে পারবেন না। আমরা উপায় না পেয়ে রাস্তায় নেমেছি। মালিকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাচ্ছি। পরে পুলিশ মালিকের ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিয়েছেন। তারা আমাদের সবাইকে দুই হাজার করে টাকা দিতে চান। আমরা বলেছি, দুই হাজার টাকা নেবো না। তখন তিনি এই মুহূর্তে বেতন দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। আমরা পুলিশের কথায় ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেছি।’
তিনি বলেন, 'আমাদের বিষয় বিজিএমইএ-কে জানিয়েছে পুলিশ। দেখি এখন কী হয়। শুনছি, মালিক আর কারখানা খুলবেন না। আমাদের পাওনা না দিয়ে কীভাবে তিনি কারখানা বন্ধ করেন?'
উজ্জ্বল আরও বলেন, 'দুই মাসের বেতন বকেয়া থাকলে আমরা কীভাবে বাঁচবো। আমরা সবাই ঢাকাতে আছি, এখানে বাসা ভাড়া দিতে পারছি না, বাজার করতে পারছি না। মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। আমরা বাধ্য হয়ে রাস্তা অবরোধ করেছি। বেতনভাতা পরিশোধ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।'
অপরদিকে, রূপকথা ফ্যাশনের শ্রমিক সজল বলেন, ‘আমাদের একমাসের বেতন বকেয়া। কারখানায় আমরা ২৩০-২৪০ জন শ্রমিক কাজ করি। আমাদের বেতন কবে দেবে তার কোনও নিশ্চয়তা পাচ্ছি না। তাই আন্দোলন করছি। না খেয়ে থাকা যায় না।'
এ ব্যাপারে রাজধানীর হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রশিদ জানান, পুলিশ সদস্যরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে বেলা ১১টার দিকে সরিয়ে দিয়েছেন। বিজিএমইএ-কে ব্যাপারটি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পোশাক কারখানা দুটির মালিকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
ছবি : নাসিরুল ইসলাম








