রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পুরো দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ অবস্থায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও জীবনের ঝুঁকিকে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)।
সংগঠনটি বলছে, আমরা অবগত হয়েছি, ইতোমধ্যে নির্দেশনা পেয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গার্মেন্ট কর্মীরা ঢাকা ও এর আশপাশের কারখানায় যোগ দেওয়ার জন্য পায়ে হেঁটে ও অন্যান্য মাধ্যমে আসা শুরু করেছেন। আমাদের স্মরণ আছে, ইতোপূর্বে গার্মেন্ট কারখানা খোলা ও বন্ধের বিষয়টি নিয়ে অস্পষ্টতার কারণে অনেক গার্মেন্ট কর্মী বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আসার ফলে ব্যাপক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়। বিষয়টি তখন জনগণের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
গত ২৩ এপ্রিল সরকারের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আমরা অবহিত হয়েছি, শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সাপেক্ষে উৎপাদন ও রফতানিমুখী শিল্পসহ সব কলকারখানা চালু করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এর আগে গণমাধ্যমে আমরা অবহিত হয়েছি, করোনা ঝুঁকির মধ্যেই গার্মেন্ট কারখানা চালু করতে চান মালিকরা। বিশেষত, যাদের হাতে রফতানি আদেশ রয়েছে, তারা কারখানা চালু করতে চাইছেন।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) মনে করে, বিদ্যমান বাস্তবতায় অধিকাংশ শিল্প কারখানার অভ্যন্তরে কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত দুরূহ। একইসঙ্গে শ্রমিকরা বস্তিসহ নিম্ন আয়ের আবাসন এলাকায় অতি ঘন পরিবেশে যেভাবে জীবনযাপন করেন, সেখানে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব। শিল্প-কারখানা চালু করা এবং কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টির বহুমাত্রিকতা আছে। সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা দিতে হলে পরিকল্পনার সব অনুষঙ্গ বিবেচনায় নেওয়া উচিত। আর সে কারণেই কল-কারখানার অভ্যন্তরীণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি, শ্রমিকদের বাসস্থানের অভ্যন্তরীণ বসবাসের পরিবেশ, শ্রমিকদের কর্মস্থলে যাতায়াত এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য সুবিধাদি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিবেচ্য হওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আসন্ন মে মাসে করোনা সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনাভাইরাস মহামারির চরম বিপর্যয়কর সময়টি আসা এখনও বাকি। এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে তারা।
এই পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশে শিল্প-কারখানা ঢালাওভাবে খুলে দেওয়া হলে বিদ্যমান বাস্তবতায় তা স্বাস্থ্য বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে। আমাদের শিল্প-কারখানার শ্রমিকেরা কারখানার অভ্যন্তরে শ্রমঘন পরিবেশে, কিংবা অতিঘন বাসস্থানে করোনা সংক্রমিত হতে পারেন—যা পরবর্তীতে ব্যাপকভাবে কমিউনিটি সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করবে। এই সংক্রমণ কারখানা এলাকা থেকে আশপাশের এলাকা এবং নিম্ন আয়ের আবাসন এলাকা থেকে নগর ও অঞ্চলের আশপাশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।








