মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আল হাইআতুল উলয়া লিল- জামিআতিল কওমিয়ার চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীসহ দেশের খ্যাতনামা আলেমরা। বুধবার (৬ মে) বিকালে পৃথক বিবৃতিতে তারা মসজিদগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রসংশনীয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের ধন্যবাদ জানান।
এরআগে, ৬ এপ্রিল মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছিল ধর্ম মন্ত্রণালয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে মুসল্লিদের মসজিদে যাওয়া তুলে নেওয়ার দাবি তোলেন আলেমরা। সম্প্রতি সীমিত পরিসরি মার্কেট খোলার সরকারি সিদ্ধান্ত আসার পর এ দাবি আরও জোরালো হতে থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৭ মে) জোহরের নামাজ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুস্থ মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারবেন। বুধবার (৬ মে) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় ধর্ম মন্ত্রণালয়।
এদিকে বিবৃতিতে আল হাইআতুল উলয়া লিল- জামিআতিল কওমিয়ার চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফি বলেন, মসজিদ কর্তৃপক্ষ যথাযথ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং সরকারের দেওয়া শর্তসমূহ যথাযথভাবে পালন করে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্তের জামাত, জুমা, ও তারাবিহ আদায়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামের আহবানে সাড়া দিয়ে এবং রমযান মাসের ফযিলতের কথা বিবেচনায় নিয়ে সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য দেশের সব মসজিদ খুলে দেওয়ার নির্দেশ জারি করায় আহমদ শফি প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের ধন্যবাদ জানান।
অপর এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, সরকার ধীরে ধীরে সবকিছু খুলে দিচ্ছে। এ মুহূর্তে মসজিদগুলো বন্ধ রাখার কোনও যৌক্তিকতা নেই। রমযান মাসের সঙ্গে মসজিদের সম্পর্ক খুবই গভীর। মসজিদগুলো খুলে দেওয়া অবশ্যই প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত। যে মুহূর্তে দেশব্যাপী করোনা মহামারী আকার ধারণ করেছে এবং ক্রমেই তা মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। এমতাবস্থায় মুসল্লিদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্কতার সাথে মসজিদে যেতে হবে। স্বাভাবিকের চেয়ে একটু ফাঁকা ফাঁকা হয়ে কাতারবন্দি হতে হবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে মসজিদকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে এবং জীবানুনাশক দিয়ে জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে।
৬ এপ্রিল মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছিল ধর্ম মন্ত্রণালয়। সে সময় নির্দেশ দেওয়া হয়, শুধু মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমরা মসজিদে নামাজ আদায় করবেন। জুমার জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায় করতে হবে। এছাড়া মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ অনধিক পাঁচ জন এবং জুমার জামাতে অনধিক ১০ জন শরিক হতে পারবেন বলে তখন নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২৪ এপ্রিল পৃথক আরেক বিজ্ঞপ্তিতে তারাবি নামাজের বিষয়ে বিধি নিষেধ আরোপ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। বলা হয়, খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদিম ও দুই জন হাফেজসহ সর্বোচ্চ ১২ জন রমজান মাসে মসজিদে এশা ও তারাবির নামাজে অংশ নিতে পারবেন।








