করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে এক মাস আগে মসজিদে গিয়ে জামাতে মুসল্লিদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সরকার। স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) রমজান মাসের দ্বিতীয় জুমার নামাজ আদায় করতে মসজিদগুলোতে ভিড় করেছেন মুসল্লিরা। তবে অনেক মুসল্লিকেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। মসজিদ কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধির বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিলেও এ বিষয়ে মুসল্লিদের উদাসীনতা লক্ষ করা গেছে।
রমজান মাসে মুসলমানরা ইবাদতে বেশি মনোযোগী হন। জুমার নামাজে মুসল্লিদের অংশগ্রহণ থাকে অন্য সময়ের তুলনায় বেশি। নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে রমজানের প্রথম জুমায় মসজিদে গিয়ে জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি মুসল্লিরা। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর আজ প্রায় সব মসজিদই মুসল্লিদের অংশগ্রহণে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। তবে মাস্ক পরা, মসজিদের গেটে হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজার ব্যবহার, এক কাতার অন্তর কাতার করা, শিশু ও বৃদ্ধদের মসজিদে না আসা, বাসায় ওজু ও সুন্নত নামাজ পড়ার শর্ত দেওয়া হলেও তা মানার আগ্রহ দেখা যায়নি মুসল্লিদের মধ্যে। স্বাস্থ্যবিধির বিষয়গুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মসজিদের খতিব, ইমাম এবং পরিচালনা কমিটির নির্দেশনা থাকলেও কোনও কোনও মসজিদে তা মানতে দেখা যায়নি।
জুমার নামাজের আজানের আগেই রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়ার শাহ সাহেব নগর জামে মসজিদে আসতে শুরু করেন মুসল্লিরা। অন্যান্য মসজিদেও একইভাবে সাড়ে ১২টা থেকেই আসাতে শুরু করেন মুসল্লিরা।
প্রত্যেক মুসল্লিকে মাস্ক পরার নির্দেশনা দেওয়া হলেও অনেক মুসল্লি মাস্ক পরে আসেননি। রাজধানীর মিরপুরের দারুসসালাম রোডের বাংলাদেশ-কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার জামে মসজিদ, দারুসসালাম শাহী জামে মসজিদ, কলাবাগানের বায়তুস সালাম মসজিদ, ধানমন্ডির বাইতুল আমান মসজিদ, পশ্চিম পান্থপথ জামে মসজিদ, শুক্রাবাদ জামে মসজিদসহ অন্য অনেক মসজিদেই মুসল্লিদের মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। এমনকি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমেও অনেক মুসল্লি মাস্ক ব্যবহার করেননি। স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নির্দেশনা না মানলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট মসজিদের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
যদিও বায়তুল মোকাররমসহ অন্যান্য মসজিদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও মাস্ক ব্যবহার না করেই নামাজ পড়তে দেখা গেছে।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের জন্য বসানো হয়েছে জীবাণুনাশক অটোমেটিক স্প্রে মেশিন। এছাড়া, মিরপুরের পাইকপাড়া সরকারি জামে মসজিদ, কলাবাগানের বায়তুস সালাম মসজিদ, ধানমন্ডির মসজিদ উত তাকওয়াসহ অন্যান্য মসজিদের গেটে মুসল্লিদের হাতে স্যানিটাইজার, জীবাণুনাশক ছিটানোর ব্যবস্থা ছিল। তবে কোনও কোনও মসজিদে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে তৈরি জীবাণুনাশক ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ব্লিচিং পাউডারসহ অন্যান্য জীবাণুনাশক সরাসরি ছিটানো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। দেখা গেছে, কোনও কোনও মসজিদে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হলেও খুব কম সংখ্যক মুসল্লি হাত ধুয়েছেন। আবার মুসল্লিদের বাসা থেকে ওজু করে ও সুন্নত নামাজ আদায় করে আসতে বলা হলেও অনেক মুসল্লি এ নিয়ম মানেননি। শিশু ও বৃদ্ধদের জামাতে অংশগ্রহণ করতে নিষেধ করা হলেও সব মসজিদেই বৃদ্ধদের জামাতে অংশ নিতে দেখা গেছে।
দারুসসালাম শাহী জামে মসজিদে নামাজ পড়েছেন অবসরে যাওয়া সরকারি চাকরিজীবী জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমি সুস্থ আছি। বয়স হয়েছে বলে মসজিদে আসতে পারবো না, এটা কোনও নিয়ম হতে পারে না।’
পশ্চিম পান্থপথ জামে মসজিদের মুসল্লি বুলবুল মিয়া বলেন, ‘নামাজ সবার জন্য ফরজ। আমি কেন মসজিদে আসবো না। বয়স্করা মসজিদে আসতে পারবে না—যারা এই নিয়ম করেছেন, তারা কি আমাদের গুনাহের দায়িত্ব নেবে? এসব নিয়ম মানবো না। যতদিন সুস্থ আছি মসজিদে এসেই নামাজ পড়বো।’
তবে দীর্ঘ এক মাস পর মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে পেরে উচ্ছ্বসিত ছিলেন মুসল্লিরা। কলাবাগানের বায়তুস সালাম মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লি আব্দুর রহমান বলেন, ‘বিগত এক মাস জুমার নামাজ পড়তে পারিনি। মসজিদে এসে জামাতে শরিক হতে পারিনি। খুব খারাপ লাগতো। আজকে মসজিদে এসে শান্তি লাগছে।’
প্রসঙ্গত, বুধবার (৬ মে) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৭ মে) জোহরের নামাজ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুস্থ মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারবেন। এর এক মাস আগে ধর্ম মন্ত্রণালয় মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
# বায়তুল মোকাররম মসজিদের ছবি তুলেছেন সাজ্জাদ হোসেন, অন্যান্য মসজিদের ছবি তুলেছেন চৌধুরী আকবর হোসেন








