পুরান ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা এরা। সবাই ছোটবেলার বন্ধু এবং স্বেচ্ছাসেবী একটি দলের সদস্য। কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে চাকরি করেন, কেউ করেন ছোটখাটো ব্যবসা। আবার কেউ এখনও ছাত্র। প্রতাপ দাস লেন, গোপাল সাহা লেন, পিসি ব্যানার্জি লেনসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন লেনের বাসিন্দাদের আপদে-বিপদে তারা পাশে থাকেন। নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক কাজেও নিজেদের সম্পৃক্ত রাখেন।
করোনাভাইরাসের চলমান এই সংকটে এই দলের সদস্যরা খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ছুটে চলছেন অলি-গলিতে। দুস্থ ও অসহায় মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছে খাবার। খবর পেলেই খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হাজির হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষের ঘরে। কেউ আবার বাজার থেকে খাদ্য কিনিয়ে নিচ্ছেন তাদের দিয়ে। নিঃস্বার্থভাবে মানুষের সেবায় ওরা নিবেদিত। গ্রুপটির নাম ‘মাঞ্জা’।
পুরান ঢাকার ঘুড়ি উৎসবের কথা সবারই জানা, পৌষ সংক্রান্তির দিনে ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব। নানা উপকরণ দিয়ে ঘুড়ির সুতা ধারালো করা হয়, ঘুড়ি কাটার জন্য, স্থানীয় ভাষায় যাকে বলে মাঞ্জা। এই মাঞ্জা দেওয়ার ফলে সুতা মজবুত হয়, উৎসব প্রাণশক্তি পায়। তেমনি নানা দুর্যোগে, দুঃসময়ে তাদের গ্রুপটি মাঞ্জার মতো মজবুত। সেই প্রাণশক্তি নিয়েই করোনাভাইরাসে ঘরবন্দি মানুষের কাছে খাবার নিয়ে হাজির হচ্ছেন তারা।
২০০৯ সাল, পৌষসংক্রান্তির ঘুড়ি উৎসব পালনের জন্য সবার জমানো টাকা দিয়ে শুরু হয় মাঞ্জা’র পথচলা। এলাকায় পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে একের গ্রুপের নাম রয়েছে আলাদা আলাদা। হঠাৎ চিন্তা হলো তাদের একটা নাম দরকার, সেই আলোচনায় দলের সদস্যদের আলোচনা থেকেই আসে নাম ‘মাঞ্জা’। তারপর থেকে পৌষসংক্রান্তি পালন এর পাশাপাশি মানুষের সাহায্যে নিয়োজিত হয়ে ওঠে ওরা, পাশাপাশি এলাকার নানান সামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। মাঞ্জা গ্রুপের মহল্লায় শিংটোলা পঞ্চায়েত কমিটি রয়েছে যা এলাকার মুরুব্বিরা পরিচালনা করেন। পঞ্চায়েতের অন্যতম সদস্য এস এম মুন্না যিনি মাঞ্জার সদস্যদের অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন এলাকায় সামাজিক - সংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার জন্য। ডেঙ্গু মশা প্রতিরোধে এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করা, বৃষ্টির পানি জমে থাকলে সেসব পরিষ্কার করা, এলাকার কেউ বিপদে পড়লে তাদের পাশে থাকা কিংবা কারও রক্ত প্রয়োজন হলে সেটি ব্যবস্থা করে দেওয়া। নিজেরাও ছুটে যায় রোগীর কাছে তা রাতে হোক বা দিনে। শীতকালে শীতবস্ত্র দেওয়াও তাদের নিয়মিত কাজ।
তাদের যেকোন ধরনের কার্যক্রমে সবসময়, বিপদে- আপদে পাশে থাকেন, এলাকার বড় ভাই ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সারোয়ার হোসেন বাবু। মাঞ্জার সদস্যদের অনুপ্রাণিত করে এলাকার সামর্থবানদের প্রতি এই নিবেদিত সমাজকর্মীদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
মাঞ্জা বর্তমানে করোনাভাইরাসে ঘরবন্দি মানুষের মাঝে নিজেদের জমানো অর্থ দিয়ে সাহায্য করে যাচ্ছে । পাশাপাশি অনেক মানুষও এগিয়ে এসেছে তাদের আর্থিক সহায়তা করার জন্য। যার ফলে প্রতিদিন তাদের সাহায্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এই গ্রুপের সদস্য রেহান মারুফ বলেন, ‘সবাই যদি এগিয়ে আসে তাহলে তারা আরও অনেক অবহেলিত মানুষকে সাহায্য করতে পারবেন। ’
দলের সঙ্গে কাজ করা হিমেল নামে এক কর্মী বলেন, ‘আমরা মানুষের মাঝে থাকতে চাই, আমাদের প্রচেষ্টায় কতটুকু এগোতে পারবো জানি না। সবার সহযোগিতায় আমরা এগিয়ে যেতে চাই।’
করোনার প্রাদুর্ভাবে ছিন্নমূল অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করে যাওয়া মাঞ্জা গ্রুপের সদস্যদের উৎসাহিত করতে অনুদান দিতে পারবেন যে কেউ। এজন্য তারা ০১৬১০১৪২১৪৩ নম্বরে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জেনে নিতে পারবেন।








