বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ ল্যাবরেটরির নাম পরিবর্তন করে ডিএনএ ব্যাংক নামে কার্যক্রম শুরু করেছে। বুধবার (১০ জুন) সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত ৮ জুন আইজিপি অনুমোদন দেওয়ার পর থেকেই ডিএনএ ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
সিআইডির ডিএনএন ল্যাবের যাত্রা শুরু হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই ল্যাবরেটরি ধর্ষণ, অজ্ঞাত মৃতদেহ শনাক্তকরণ, পিতৃত্ব বিরোধ/নিষ্পত্তি, ডাকাতি, হত্যাসহ প্রায় ছয় হাজার মামলার বিপরীতে ১৬ হাজারের বেশি আলামত থেকে ২০ হাজার ডিএনএ প্রোফাইলিং করেছে। যা LIMS (Laboratory Information Management System) এর সার্ভারে সংরক্ষিত আছে।
ফারুক হোসেন জানান, ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে আদালতের আদেশক্রমে ল্যাবের ডিএনএ প্রোফাইলিং এর কার্যক্রম শুরু হয়। 'ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি অফ বাংলাদেশ পুলিশ' এ প্রথম আলামত গ্রহণ করা হয় ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি।
২০১৪ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মোট সংগৃহীত মামলার সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। ডিএনএ ব্যাংক এ সংরক্ষিত অপরাধীদের প্রোফাইল পরবর্তীতে ওই একই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই পর্যন্ত বিভিন্ন মামলার সাথে সম্পর্কিত প্রায় ১৫০০০ প্রোফাইল ডিএনএ ব্যাংকে সংরক্ষিত আছে। যার মাধ্যমে পরবর্তিতে খুব সহজেই সন্দিগ্ধ ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে সংরক্ষিত অপরাধীদের ডিএনএ প্রোফাইল তদন্তকার্যক্রমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলা সংক্রান্ত সব আলামতের বিশ্লেষণ ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবে হয়ে থাকে। ডিএনএ ল্যাব সিআইডি এর সহায়তায় বাংলাদেশ পুলিশ অসংখ্য ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলা সমাধান করতে সফল হয়েছে। বর্তমানে ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাব দেশের বিভিন্ন কোর্ট, থানা থেকে আসা শতাধিক মামলা গ্রহণ করে থাকে এবং নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দেয়। ডিএসএ ডাটাবেজে সংরক্ষিত ডিএনএ প্রোফাইল সমূহ বিশ্লেষণ করে নিখোঁজ বা অজ্ঞাত কোনও ব্যক্তিকে শনাক্তকরণ করা সম্ভব হয় যদি অজ্ঞাত বা নিখোঁজ ব্যাক্তির দাবিদার কিংবা আত্মীয়-স্বজন পাওয়া যায়।
জাপান সরকারের জেডিসিএফ এর অর্থায়নে ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি অফ বাংলাদেশ পুলিশ শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম ২০১১ সালের আগস্ট থেকে শুরু হয়, যা জুন ২০১৫ সালে সমাপ্ত হয়।
দেশের শীর্ষ জঙ্গি মুসাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয় ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে। মৌলভীবাজারে ২০১৭ সালের এপ্রিলে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটেরর অপারেশনে তিন জঙ্গি নিহত হয়। তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সিআইডি নিশ্চিত হয় এই তিনজনের লাশের মধ্যে জঙ্গি মুসার লাশও রয়েছে। এরকম অসংখ্য মামলা তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।








