দেশে আক্রান্তের তুলনায় ১০ গুণ বেশি এন্টিবডি তৈরি হয়েছে: ডা. বিজন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১১ জুলাই ২০২০, ১৪:১৮আপডেট : ১২ জুলাই ২০২০, ০৮:২৩

ডা. বিজন কুমার শীল বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের পিক-টাইম চলছে বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ডা. বিজন কুমার শীল। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, 'দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে। সেটা অত্যন্ত আনন্দের খবর।' আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে করোনা থেকে আমাদের মুক্তি হবে বলে তার ধারণা।

বাংলা ট্রিবিউনকে নিজেদের একটি জরিপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, 'যে পরিবারের একজন মানুষের ইনফেকশন হয়েছে, তিনি করোনাতে আক্রান্ত হয়েছেন, সে পরিবারের সব সদস্যের ভেতরে ভেতরে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে বলে আমাদের এক জরিপে পাওয়া গেছে। করোনার এই মহামারির সময়ে যেটি অত্যন্ত ভালো সংবাদ।'

তিনি বলেন, 'আমরা দেখেছি, যেই পরিবারে একজন আক্রান্ত হয়েছেন, সেই পরিবারের অন্য সদস্যের ভেতরে লক্ষণ-উপসর্গ মারাত্মক আকার ধারণ করেনি। মৃদু লক্ষণের ভেতর দিয়ে গিয়েছেন তারা এবং এর ভেতর দিয়েই তাদের শরীরে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে। এই চিত্র আমাকে আশান্বিত করেছে। আমাদের দেশে যত মানুষ করোনাতে আক্রান্ত হয়েছেন, তার ১০ গুণ বেশি মানুষের মধ্যে এন্টিবডি ফিরে এসেছে।'

এই চিকিৎসক বলেন, 'দেশে ১৬ কোটি মানুষ, সেই হিসাবে একজন করে সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষের হিসাব করলে সেটা অনেক। যদিও সংখ্যাটা সার্ভে না করে নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না।'

এন্টিবডি টেস্টের পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার এবং এটি খুবই ভালো খবর মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'ইতোমধ্যে জানতে পেরেছি, এন্টিবডি টেস্ট হয়তো শুরু হবে। যদি সরকার পদক্ষেপ নেয়, কেবল রাজধানী ঢাকাতেও যদি এটা সার্ভে করা হয়, তাহলেও বোঝা যাবে কত মানুষের মধ্যে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে। এটা খুবই আনন্দের কথা।'

'আমার ধারণা, ঢাকা শহরের অনেকের ভেতরেই এন্টিবডি রয়েছে। তবে এটা জানা দরকার। তাহলে মানুষ ভয় থেকে মুক্ত হতেন। আর তখন দেশের অর্থনৈতিক চাকাও ঘোরা শুরু করবে।'—বলেন বিজন কুমার শীল।

যেসব এলাকায় লকডাউন বা কোয়ারেন্টিন করা হচ্ছে, সেখানে যদি সার্ভে করা যায়, তাহলে কত মানুষের মধ্যে এন্টিবডি গ্রো করেছে সেটাও দেখা যাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'আমার ধারণা সেটা কম হবে না, তারা আমাদের জন্য আশীর্বাদ।'

'আমি দেখতে চাচ্ছি, দেশের কত মানুষের মধ্যে এন্টিবডি রয়েছে বা ইমিউনিটি এসেছে—এটা সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর এখন। কারণ, এটাই এই রোগ থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করবে। যত বেশি এন্টিবডি আসবে, তত ভাইরাস থেকে মুক্তি ঘটবে। তাই বলতে চাই, আমরা যত ভয়-ভীতিতে আক্রান্ত হচ্ছি, আসলে বিষয়টা হয়তো সে পর্যায় থেকে অনেকটা এগিয়ে এসেছে।'

ডা. বিজন কুমার শীল কথা বলেন দেশের পিক টাইম নিয়েও। তার ভাষায়, 'বাংলাদেশে এখন করোনাভাইরাসের পিক টাইম চলছে।' একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পিক যত দ্রুত হবে, তত দ্রুত আমরা সেখান থেকে নেমে আসবো এবং তত দ্রুত ইনফেকশন চলে যাবে।'

'সাধারণত কোথাও ব্যাপক এন্টিবডি গ্রো না হওয়া পর্যন্ত সেখানে পিক চলতে থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত সে ‘ভার্জিন হোস্ট’ পাবে, ততক্ষণ সে ইনফেক্ট করবে। আর যখন এন্টিবডি গ্রো সম্পন্ন একটা জনগোষ্ঠীকে সামনে পাবে, তখন সেটা ধীরে ধীরে স্থিমিত হয়ে আসবে, কমতে থাকবে—এটাই নিয়ম, এটাই রীতি।'—যোগ করেন তিনি।

'আবার যদি একবার চলে যায়, তাহলে সেটা ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। অনেক মানুষের মধ্যে এন্টিবডি তৈরি হবে, অনেক মানুষ ইমিউন তৈরি করবে; যার কারণে খুব সহজে এটা ইনফেক্ট করতে পারবে না।'

তিনি বলেন, 'ভাইরাস যত দ্রুত ওঠে, তার চেয়েও বেশি দ্রুত নেমে যায়। কারণ যখন সে কোথাও আক্রমণ করে তখন সে একটা ‘ভার্জিন পপুলেশন’ পায়, যেখানে ভাইরাসের বিপক্ষে কোনও এন্টিবডি ছিল না। কিন্তু, যতই সেটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, ততই তার সামনে অসংখ্য এন্টিবডি সৃষ্টি হয়। ইমিউন সিস্টেমবাহী মানুষের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয় তাকে। আর এন্টিবডি তৈরি হওয়া মানুষের সঙ্গে মোকাবিলা করে ভাইরাস  এগোতে পারে না। আমাদের দেশেও সেটা হচ্ছে। এভাবেই ভাইরাসকে বিতাড়ন করা হয়। আমি মনে করি, খুব বেশি হলে আর দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে করোনা থেকে আমাদের মুক্তি হবে।' তবে আসন্ন ঈদে এটি আরও সংক্রমিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ইউরোপের উদাহরণ দিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, '১৫ থেকে ১৮ সপ্তাহের মধ্যে সেখানে পিক টাইম ছিল, তারপর থেকে করোনাভাইরাসের প্রকোপ স্থিমিত হয়ে এসেছে এবং বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে এন্টিবডি এসেছে। বাংলাদেশে প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। সেই হিসেবে বাংলাদেশেও করোনার ২০ সপ্তাহ চলছে। সাধারণত ভাইরাসের একটি পরিবেশ দরকার হয়, তার উপযোগী পরিবেশ ছাড়া সে ট্রান্সমিশন করতে পারে না।'

তাপমাত্রাসহ অন্যান্য পরিবেশগত কারণে দেশের আবহাওয়া করোনারভাইরাসের উপযোগী নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আবহাওয়ার সঙ্গে করোনাভাইরাসের সম্পর্ক রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'অবশ্যই রয়েছে। তাপমাত্রার সঙ্গে মানুষ, গাছপালা, পরিবেশ সবকিছুর সম্পর্ক রয়েছে। এটা থাকবেই। বাতাসে যদি হিউমিডিটি বেশি হয় তাহলে সে বেশিক্ষণ থাকতে পারে না, দ্রুত মারা যায়। অপরদিকে, ঠান্ডা তাপমাত্রায় ভাইরাস দীর্ঘসময় থাকতে পারে—যেটা আমাদের জন্য অবশ্যই প্লাস পয়েন্ট।'

'তবে যাদের অন্যান্য জটিল রোগ রয়েছে যেমন: কিডনি সমস্যা, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপ—তাদের জন্য একটু বেশি আশঙ্কার। ভাইরাসকে গ্রো করার জন্য সুযোগ দেওয়া যাবে না'—বলেন তিনি।

/জেএ/আইএ/এমএমজে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
সব দলকে রাজনীতি করতে দিতে চায় বিএনপি, এর মধ্যে আ.লীগ কি আছে?
সব দলকে রাজনীতি করতে দিতে চায় বিএনপি, এর মধ্যে আ.লীগ কি আছে?
ইকরার মৃত্যু: জামিন পেলেন অভিনেতা জাহের আলভীর মা
ইকরার মৃত্যু: জামিন পেলেন অভিনেতা জাহের আলভীর মা
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী