করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন বাইরে অবস্থান করা নারীরা কর্মজীবী হোস্টেলে ফিরে আসলে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেখানোর কথা ছিল। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। করোনা সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর সরকারের জারি করা দীর্ঘ সাধারণ ছুটি শেষে অনেকেই সার্টিফিকেট না দেখিয়েই ঢুকে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হোস্টেলে অবস্থানকারী নারীরা বলছেন, কর্তৃপক্ষ যদি তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকতো তাহলে এই নিয়ম বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল।
তবে বর্তৃপক্ষ বলছে, এখনও শতভাগ উপস্থিতি নেই হোস্টেলগুলোয়। করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর যারা হোস্টেল ছেড়ে গিয়েছিলেন, তাদের পঞ্চাশ শতাংশও ফিরে আসেননি। ফলে এমনিতেই সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। আর যারা ফিরেছেন, তাদের অনেকের ক্ষেত্রে করোনা টেস্ট করিয়ে নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে আসা বাস্তবসম্মতও ছিল না।
এই শঙ্কার মধ্যে কেমন আছেন হোস্টেলের কর্মজীবী নারীরা? জানতে চাইলে নীলক্ষেত কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলের এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘সকালে অফিসে যাই। সেখানে নানারকম লোকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় রোজ। ফিরে এসে সোজা রুমে গিয়ে আগে পোশাক পরিবর্তন ও সেগুলো ধুয়ে ফেলার কাজগুলো করে বসার সুযোগ হয়। আমরা একেকজন একেকদিকে রোজ কাজে যাই। কে কোথায় যাই তার খোঁজ কেউ জানি না। রুমে ফিরে বেশিরভাগ নারীই কোনোরকম বাড়তি সুরক্ষা ছাড়া একসঙ্গে বসবাস করছেন। এটা অবশ্যই আতঙ্কের। মেয়েরা জীবিকার তাগিদে ফিরে এসেছে ছুটি থেকে। তাদের যদি কোনোরকমের জ্বরজারি হয়, তারা চেপেই যাবে। কিন্তু সেটা মনিটরিংয়ের জন্য গেটের বাইরে তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থাও নেই। অথচ এটা থাকার কথা ছিল। রোজ আমরা যখন বাইরে থেকে আসি সেটা ব্যবহার করা হয় না।’
ছুটি শেষে ফিরে আসা অনেকেরই করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট না থাকায় গেস্টরুমে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল উল্লেখ করে হোস্টেলের আরেক নিবাসী অভিযোগ করেন, ‘সেই নিয়ম ঠিকভাবে অনেকেই মানেননি। হয়তো গেস্ট রুমে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু নিজের রুমে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। যে কোনও জায়গায় ঘোরাফেরার চেষ্টা করেছে। আমরা আক্রান্ত হওয়ার ভয় যতটা না পাই, তার চেয়ে কেউ একজন আক্রান্ত হলে অন্য প্রত্যেকের ঢাকায় থাকা অনিশ্চিত হয়ে যাবে। তখন চাকরিটা বাঁচাবো কী উপায়ে? সেজন্য বাড়তি সতর্কতা দরকার বলে মনে করি।’
কেবল সরকারি এসব হোস্টেলের নারীরাই নন, বাসায় মেস করে থাকেন যে কর্মজীবীরা তাদেরও শঙ্কার জায়গা একই। মিরপুর কাজীপাড়ায় এক বাসায় তিনটি রুমে থাকতেন পাঁচ নারী। একজনের করোনা পজিটিভ হওয়ার পর তিনি কাউকে কিছু না বলে বাসা ত্যাগ করেন। অন্যরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই একযোগে আক্রান্ত হন করোনায়। তাদের আক্রান্ত হওয়ার অনেক পরে তারা বুঝতে পারেন প্রথম যিনি বাসা ত্যাগ করেছিলেন তার কাছ থেকেই তারা সংক্রমিত হয়েছেন।
প্রত্যেক রুমে সুরক্ষা সতর্কতার নোটিশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে নীলক্ষেত কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলের সুপার সাবেকুন নাহার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ছুটি শেষে মেয়েরা ফেরার সময় যাতে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে আসে সেটি বলা হয়েছিল। অনেকেই এনেছিল। কিন্তু অনেক মেয়ের পক্ষেই সেটি আনা সম্ভব হয়নি যখন, তখন আমরা তাদের জন্য গেস্টরুমে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করি। সাত দিনেই বোঝা সম্ভব তাদের লক্ষণ আছে কিনা। পরবর্তীতে নিয়ম মেনে তারা রুমে উঠেছে। এখন নিয়মিত মেয়েদের তাপমাত্রা মাপা, চারপাশে ব্লিচিং ছিটিয়ে পরিচ্ছন্ন রাখার কাজগুলো করা হয়। আর ৫০১ সিটে যেহেতু এখন শ’খানেক মেয়ে উপস্থিত, সামাজিক দূরত্ব এমনিতেই নিশ্চিত হয়। বাকি মেযেরা এখনও ফেরেনি।’
মিরপুর কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলেও পঞ্চাশ শতাংশ মেয়েও বাড়ি থেকে ফেরেনি উল্লেখ করে সুপার ছামিনা হাফিজ বলেন, ‘আমাদের এখানে কোনও সমস্যা নেই। মেয়েরা ছুটি শেষে ফেরার সময় করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট সবাই দেখাতে পারেনি। আমরা সেটা কনসিডার করেছি। অনেক ঘর ফাঁকা। মেয়েরা যাতে দূরত্ব বজায় রেখে থাকতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে।’








