আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থীদের জয় নিয়ে আশাবাদী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা এ বিষয়ে একটি মূল্যয়ন প্রতিবেদনও তৈরি করেছেন। ওই প্রতিবেদনে তারা আশা প্রকাশ করেছেন, বেশ কয়েকটি কারণে অধিকাংশ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়রপ্রার্থীরা জয়ী হবেন। এর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয় বলেও তারা মনে করছেন। তাদের মধ্যে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে কমপক্ষে ২০০ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থীরা জয়ী হবেন। এছাড়া, বাড়তি সুবিধা পেলে আরও ২০টি পৌরসভার ফলও নিজেদের দিকে থাকবে বলে মনে করছেন তারা। আর ভোটে জয়লাভের কারণ হিসেবে তারা সেসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে উল্লেযোগ্য হলো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস, দেশের ধারাবাহিক অগ্রগতি, পদ্মাসেতুর উদ্বোধন প্রভৃতি। এ সব বিষয় উল্লেখ করে রবিবার সন্ধ্যায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সাংগঠনিক নেতারা এই প্রতিবেদন পেশ করেন।
সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গির কবীর নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বিএম মোজাম্মেল কহ, মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ। বৈঠকে পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার জন্য সাত বিভাগে সাতটি প্রচার টিম গঠন করা হয়েছে।
বৈঠক সূত্র জানায়, মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সাত বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সাফল্য দেখিয়েছেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি শক্তহাতে মোকাবিলা করেছেন। দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনছেন। এ কারণে তার প্রতি জনগণের আস্থা-বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাফল্যও দীর্ঘায়িত হবে বলে জনগণ মনে করছে। এ কারণে পৌরসভা নির্বাচনেও ভালো ফল পাওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দলীয় প্রার্থীদের জয়লাভের কারণের পাশপাশি বিএনপির ভরাডুবি হওয়ারও বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকেরা। তাদের মতে, বিএনপির নেতিবাচক কার্যক্রম, তিন মাসের জ্বালাও-পোড়াও, আন্দোলনে ব্যর্থতা, নেতৃত্বেও দুর্বলতা, পৌর নির্বাচনে থাকবে কি থাকবে না দলের ভেতরের অস্থিরতার কারণে দলটির প্রতি জনআস্থা কমে গেছে। এ কারণে ভরাডুবি হবে।
রবিবারের বৈঠক সূত্র জানায়, সংসদ সদস্যরা নির্বাচনি প্রচারণায় যেতে পারবেন না—নির্বাচন কমিশনের এমন নিয়ম থাকায় সংসদ সদস্য নন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, সমমনা শিক্ষক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নিয়ে দলের পক্ষে এ সব টিম গঠন করা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ৫জন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ সব তথ্য জানিয়ে বলেন, আগামী ২২ ডিসেম্বর থেকে টিমগুলো দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার কাজ শুরু করবে।
ঢাকা বিভাগের প্রচার টিমে নেতৃত্ব দেবেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ। এ টিমের অন্য সদস্যরা হলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ উল আলম লেনিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, যুব-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল, উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কার্যনির্বাহী সদস্য এনামুল হক শামীম।
চট্টগ্রাম বিভাগের প্রচার টিমে নেতৃত্ব দেবেন ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কার্যনির্বাহী সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিন, সুজিত রায় নন্দী, এনামুল হক শামীম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস।
খুলনা বিভাগে নেতৃত্ব দেবেন কাজী জাফরুল্লাহ, এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম কামাল হোসেন, মোজাম্মেল বাবু ।
রাজশাহী বিভাগে প্রচার টিমের সদস্যরা হলেন অধ্যাপক আবদুল খালেক, অধ্যাপক সাইদুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য খায়রুজ্জামান লিটন।
দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সতীশ চন্দ্র রায় রংপুর বিভাগের প্রচার টিমে নেতৃত্ব দেবেন। এ টিমের অন্য সদস্যরা হলেন যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুজহাত চৌধুরী, অভিনেত্রী শমী কায়সার।
বরিশাল বিভাগের প্রচার টিমের সদস্যরা হলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন।
সিলেট বিভাগের নেতৃত্ব দেবেন সাংগঠনিক সম্পাদক মেসবাহ উদ্দিন সিরাজ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ ও উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।
মানিকগঞ্জে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের যুব-ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য, চট্টগ্রামের রাউজানে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও স্বাস্থ্য-জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভুইয়া ডাবলুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, যারা সংসদ সদস্য নন, তাদের নিয়ে আমরা এই কমিটি গঠন করেছি। তাদের সঙ্গে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরাও নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেবেন। তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারণায় সরকারের ৭ বছরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের দেশবিরোধী অবস্থানের কথাও নির্বাচনি প্রচারণায় গুরুত্ব পাবে।
/এমএনএইচ/








