করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অন্যতম অনুষঙ্গ ‘মাস্ক’ এখন নাক-মুখ থেকে নেমে এসেছে থুতনিতে, কখনও দেখা যায় এককানে ঝুলছে। আবার কখনও হঠাৎ পকেট থেকে বের হচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় থুতনিতে ও কানে মাস্ক ঝুলানো নাগরিকদের কাছে এর কারণ জানতে চাইলে তারা বলেছেন— মাস্ক না থাকলে যদি মোবাইল কোর্ট ধরে। সঙ্গে মাস্ক আছে দেখালে যদি তাদের মায়া হয়।’ আবার কেউ বলছেন, এখন আর করোনা ভয় পাই না। কিন্তু মানুষ একজন আরেকজনকে দেখে সন্দেহ করে, বিব্রত হয় কিনা, এসব থেকে মাস্কটা সঙ্গে রাখেন তারা। কর্তৃপক্ষ বলছে, আইন প্রয়োগ করলে তো করাই যায়, বরং সতর্কতার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে পাশাপাশি অভিযানও চলছে।
দোকানে বিল কাউন্টারে দাঁড়ানো মাস্ক পরিহিত এক ব্যক্তি। বিল পরিশোধ করার সময় কথা বলছেন সেবাদানকারী কর্মচারীর সঙ্গে। কিন্তু কর্মচারীর কথা বুঝতে না পারায় কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনি মাস্কটি খুলে ফেলেন। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাস্কটি হাতেই ধরে রাখলেন।
চায়ের দোকানে বিক্রেতা চা বানাতে বানাতে ক্লান্ত। মাস্কটা থুতনির কাছে নামানো। আর তার দোকানে যারা চা খাচ্ছেন, তাদেরও মাস্ক থুতনিতে ঝুলছে। কেন এত কাছাকাছি এত জন দাঁড়িয়ে আছেন মাস্ক ছাড়া, এমন প্রশ্নে হেসে তারা জবাব দেন— চা খাবো কি মাস্ক পরে?
মাস্ক ব্যবহারে নাগরিকদের এমন আচরণের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ও মুখপাত্র আয়েশা আকতার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাস্ক অবশ্যই সঠিক নিয়মে পরতে হবে। না পরলে শাস্তির বিধান আছে। ২০১৮ সালের সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনের আওতায় সেটি করা যায়। আমরা সতর্কতার জন্য প্রচার-প্রচারণা বাড়াচ্ছি। জেলা, স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন সবস্তরে এই কাজটি অব্যাহত আছে। আইন প্রয়োগ করলে তো করাই যায়, বরং আমরা সতর্কতার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। বেশি। তবে পাশাপাশি অভিযানও চলছে।’
বাংলাদেশ করোনা সংক্রমণের বিপজ্জনক সময় পার করলেও ফেসিয়াল মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখনও মানুষের মধ্যে রয়েছে অনীহা। দিন যতই যাচ্ছে ততই যেন মানুষ মাস্ক ব্যবহারের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ছে। দীর্ঘ লকডাউন শেষে জীবনযাত্রা অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসায় সড়কে মানুষের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু তাদের অনেকের মুখেই থাকছে না স্বাস্থ্য সুরক্ষার অতিপ্রয়োজনীয় সামগ্রী মাস্ক।
মাস্ক পরতে বলা হয় যাতে নাকে-মুখে ভাইরাস না যায় সেজন্য। কিন্তু এখন মাস্ক পরে নাক খোলা রাখলে, ভাইরাসের জন্য উন্মুক্ত প্রবেশের ব্যবস্থা করে দেওয়া হলো, উল্লেখ করে হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের পরিচালক ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘জরিমানা হতে পারে, বা অন্যকোনও ভয়ে কেবল মাস্কটা রাখার জন্য রাখলে সংক্রমণের হার বাড়বে— এটা বুঝতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘মহামারির সময়ে এধরনের অদায়িত্বশীল কাজ বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। শুরুতে যেরকম অভিযান দেখা গেছে, পরবর্তীতে সেটা চালিয়ে যেতে দেখিনি। স্বভাবতই মানুষ ভেবেছে, পরিস্থিতি হয়তো ততটা ভয়ের না। আমি মনে করি, মনিটর করা যাদের দায়িত্ব, এ ব্যাপারে তাদের কোনও ধরনের ঢিলেমির সুযোগ নেই।’
ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ওয়ালিদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নাগরিকদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার জন্য মহানগরীতে নিয়মিত আমাদের মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। এই সময়ে এটা আমাদের রুটিন ওয়ার্ক, যা অব্যাহত রয়েছে। আমরা চাই, নাগরিকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুক। তারা নিরাপদ থাকুক।’
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন








