হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) স্মৃতিবিজড়িত বাগেরহাটে জমে উঠেছে পৌরসভা নির্বাচন। প্রচণ্ড শীতকে উপেক্ষা করে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিরলস প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থীদের পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো পৌর এলাকার রাস্তা-ঘাট। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এ প্রচারণা। প্রার্থীরা নানামুখী উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার নিয়ে তারা ছুটছেন ভোটারদের বাড়িতে।
ভোটারদের মন জয় করার কৌশল হিসেবে এবার প্রচারণায় বিভিন্ন ধরনের গান যোগ করেছেন প্রার্থীরা। এদিকে অন্যবারের তুলনায় এবার প্রার্থীদের পক্ষে নারীরা বেশি প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ভোটাররা ।
১৯৫৮ সালের ১ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে বাগেরহাট পৌরসভা। ১৯৯১ সালে সেটা প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বাগেরহাট পৌরসভায় ভোটার রয়েছেন ৩৫ হাজার ৭শ ৮৭ জন। এরমধ্যে নারী ভোটার ১৮ হাজার ১ শত ৩৩ জন এবং পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৬শত ৫৪ জন।
মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন প্রার্থী। ৯টি ওয়ার্ডে ৩২ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং ৩টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদের বিপরীতে লড়ছেন ৯ জন প্রার্থী।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খান হাবিবুর রহমান নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদন্দ্বিতা করছেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিগত দুইবারের নির্বাচিত মেয়র। নৌকায় ভোট দিলে পৌরসভার উন্নয়ন হবে, সুযোগ সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের, সুপেয় পানির সু-ব্যাবস্থা, উন্নত ড্রেনেজ ব্যাবস্থাসহ বাড়বে নাগরিক সব সুবিধা এমন আশ্বাস দিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থণা করছেন। এছাড়া প্রায় এক যুগ এই পৌরসভা পরিচালনার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি উন্নয়ন করবেন এমন দাবি করছেন তিনি। তাকে নির্বাচিত করলে মডেল পৌরসভা করবেন বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন।
খান হাবিবুর রহমান বলেন, ‘গত এক যুগ বাগেরহাট পৌরসভা পরিচালনার করে এ পৌরসভার উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা দিয়ে যেভাবে পৌরবাসীর সঙ্গে রয়েছি আশা করছি আসন্ন নির্বাচনে আমার সেই কর্মকাণ্ডের মুল্যায়ণ করে পৌরবাসী আবারও আমাকে নির্বাচিত করে সেবার সুযোগ দেবে।”
বাগেরহাট পৌর নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ্যাড. আবুল কালাম মো. আব্দুল হাই। তিনি বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য ও জেলা বারের নির্বাচিত সাবেক সভাপতি। হঠাৎ করেই তার মনোনয়নলাভ ও নির্বাচনে আসা। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন তিনি। পানির সমস্যার সমাধান, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পৌরসভাকে একটি আধুনিক পৌরসভায় রূপান্তরসহ বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে তিনি ভোট প্রার্থণা করছেন।
তিনি বলেন, ‘দল তার হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত।’ বাগেরহাট পৌরবাসীসহ দলের নেতাকর্মীরা তার পাশে রয়েছে। তবে নির্বাচন কতটুকু অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তিনি। তার কর্মীদের মাঝে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে তিনি জানান।
অপর মেয়র প্রার্থী জাতীয় পার্টির মির্জা আলী হাসান। তিনি জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদন্দ্বিতা করছেন। তবে তার পক্ষে তেমন কাউকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না বলে ভোটাররা জানান।
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী বাগেরহাট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মিনা হাসিবুল হাসান শিপন। তিনি দুইবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ইতিমধ্যে তাকে আওয়ামী লীগের সদর উপজেলা সভাপতির পদ হতে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে তার সমর্থনে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিকে অব্যাহতি ও পৌর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করা হয়েছে। এতকিছুর পরও মীনা হাসিবুল হাসান শিপন (শিপন মিনা) প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জোরেসোরে। তিনি পানির সমস্যা সমাধান, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ নানা ধরনের আশ্বাস দিচ্ছেন ভোটারদের।
মিনা হাসিবুল হাসান শিপন বলেন, পৌরসভার নাগরিক সেবা বাড়াতে তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচিত হলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পৌরবাসীর সেবায় নিয়েজিত থাকবেন। তিনি বলেন, “জনগণই সব ক্ষমতার উৎস আর তারা এবার পরিবর্তন চায়। তাই তাদের প্রতিনিধি হয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি।’
/টিএন/








