করোনা সংক্রমণ রোধে বিদেশফেরতদের যেসব স্বাস্থ্যবিধি মানতে হয়

চৌধুরী আকবর হোসেন
০৯ আগস্ট ২০২০, ১৩:০০আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২০, ১৫:২২

করোনাভাইরাস দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বিদেশ থেকে এ পর্যন্ত ৮ লাখ ৬ হাজার ৫৭৮ ব্যক্তি এসেছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। দেশের সব বন্দর ব্যবহার করে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সেখানে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষাসহ কারও করোনার উপসর্গ আছে কিনা তা অনুসন্ধান করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের কেউ করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট সঙ্গে না আনলে তাকে পাঠানো হয় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে। তবে কোভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক নয়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে বিমানবন্দর ব্যবহার করে এসেছেন ৪ লাখ ৮ হাজার ৭৫৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিমানবন্দর ব্যবহার করে দেশে এসেছেন ২ হাজার ৪৫১ জন। স্থলবন্দরগুলো ব্যবহার করে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২৯ জন এবং এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৬৪ জন দেশে এসেছেন। সমুদ্রবন্দরগুলো ব্যবহার করে এ পর্যন্ত ৩১ হাজার ৩২৮ জন এবং ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন ব্যবহার করে এ পর্যন্ত ৭ হাজার ২৯ জন দেশে এসেছেন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক নয়। তবে বিদেশিদের জন্য বাধ্যতামূলক। তবে কেউ সার্টিফিকেট না আনলে তাকে বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। তবে অন্য কোনও জটিল রোগে আক্রান্তদের সব সময় বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয় না।’

করোনা আক্রান্তদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক দেশে করোনা আক্রান্ত বাংলাদেশিদের নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেওয়া হয় না। সেক্ষেত্রে কেউ নেগেটিভ সার্টিফিকেটে আনতে না পারলে, করোনার উপসর্গ নেই এমন হেলথ ডিক্লারেশন সার্টিফিকেট আনলেও চলবে। এছাড়া, সরকারের বিশেষ নির্দেশনা থাকলে বিদেশিদের ক্ষেত্রেও কোনও কোনও সময় শর্ত শিথিলযোগ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকুক আর না থাকুক, আগত সব যাত্রীদের স্ক্রিনিং করা হয়। সেখানে কারও মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়।’

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নিয়ম অনুসারে প্রতিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বয়ংসম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাখার বিধান রয়েছে। যাত্রী, দায়িত্বরত বিভিন্ন সংস্থার কর্মীদের প্রাথমিক চিকিৎসা, বিমানবন্দরের স্যানিটেশন, ফিউমিগেশন ও আগত যাত্রীদের মধ্যে সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্তদের শনাক্ত করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রয়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র। একই সঙ্গে সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে নিকটবর্তী যেকোনও জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা থাকতে হবে। যেন বিমানবন্দর স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে দ্রুত কোনও রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যায়। বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের মধ্যে এমইউ রয়েছে। করোনাভাইরাসের মহামারির আগে থেকেই বিদেশে থেকে আসা যাত্রীদের মধ্যে কেউ সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত কিনা তা শনাক্তে থার্মাল স্ক্যানার ব্যবহার করা হয়। এ থার্মাল স্ক্যানার মেশিনে দেহের উত্তাপ মাপার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে কেউ আক্রান্ত কিনা তা শনাক্ত করা হয়।

২১ মার্চ রাত থেকে দশটি দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করা মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আকাশপথে যোগাযোগ সীমিত হতে থাকে। পরবর্তী সময়ে চীন ছাড়া অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বন্ধ হয়। স্বাস্থ্যবিধি ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নীতিমালা অনুসরণ করে ১৬ জুন থেকে সীমিত পরিসরে ফের ফ্লাইট চালু হয়। ১৬ জুন থেকে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চালু করার আগেই বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইন্সগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। করোনা সংক্রমণ রোধে বেবিচকের নীতিমালা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে বলা হয় এয়ারলাইন্সগুলোকে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিমানবন্দরে যাত্রীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়, তাদের একটি হেলথ ডিক্লারেশন কার্ড পূরণ করতে হয়। কারও কোনও উপসর্গ আছে কিনা, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কারও শরীরের তাপমাত্রা বেশি হলে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়।’

উপসর্গহীন করোনা রোগী শনাক্ত করাকে চ্যালেঞ্জে হিসেবে দেখছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শাহরিয়ার সাজ্জাদ। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে কোনও উপসর্গহীন করোনা আক্রান্ত যাত্রী আসলে শনাক্ত করা সম্ভব হবে না। বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব নেই, আর ল্যাব থাকলেও কোনও ব্যক্তির শরীরে জীবাণু প্রবেশের চার-পাঁচ দিন পর্যন্ত পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করা হলেও নেগেটিভ রিপোর্ট আসতে পারে। এছাড়া কেউ করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে এলেও যেকোনও সময় তিনি আক্রান্ত হতে পারেন। এজন্য বিদেশ থেকে আসলে উপসর্গ না থাকলেও বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকা উত্তম।’

/এমএএ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম