বিএসএফের গুলিতে নিহত যুবক মেহেদী হাসান ওরফে সুমনের (২২) বাড়ির সামনে বিজিবির ‘চোরাকারবারীর বাড়ি’ লেখা বোর্ড টাঙিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নিন্দা জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পক্ষ থেকে চোরাকারবারির বাড়ি লেখা বোর্ডটি টাঙানো হয়েছে বলে জানা গেছে। আসক মনে করে, এটি নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। হতদরিদ্র কৃষক মেহেদী গরু চোরাকারবারিদের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, গত বছরের ৮ নভেম্বর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হন মেহেদী। তিন দিন পর লাশ ফেরত পায় তার পরিবার। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে নিহত মেহেদীর বাবা আবদুল মান্নানের বাড়ির একটি গাছের সঙ্গে ওই সাইনবোর্ডটি টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বোর্ডটি পরিবারের সদস্যদের পাহারা দিতে বলা হয়েছে। বোর্ডটি কেউ সরিয়ে ফেললে বা কোনও ক্ষতি হলে গৃহকর্তাকেই জবাবদিহি করতে হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি। এতে লজ্জায় পাড়ায় বের হতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।
বিষয়টির নিন্দা জানিয়ে আসক আরও বলে, একজন ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর গভীর শোকে মুহ্যমান পরিবারটিকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য এমন অমানবিক ও নির্দয় আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫ (৫) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে, যেকোনও ব্যক্তির নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তি থেকে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আসক বিজিবির এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বিএসএফের গুলিতে নিহত হওয়ায় ইতোমধ্যে মেহেদীর জীবনের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। তার পরিবারের ন্যায়বিচার বা প্রতিকার পাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। তার ওপর তাদের এভাবে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। তাছাড়া একজনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের দায় কোনোক্রমেই অন্য কারও ওপর বর্তায় না।
আসক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।








