মুজিববর্ষেই একমুখী শিক্ষা বাস্তবায়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ঘোষণা এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের বেতন গ্রেডসহ বিভিন্ন বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়েছেন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। আগামী ৫ অক্টোবর শিক্ষক দিবসে মন্ত্রণালয়ের কাছে ১৫ দফাসহ কর্মসূচি ঘোষণা করবেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমের কাছে লিখিতভাবে দাবি তুলে ধরে বলা হয়— মন্ত্রণালয়,মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে বৈষম্য নিরসনের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের ঘোষণাও চাওয়া হবে। ইতোমধ্যেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কলেজের অধ্যক্ষের বেতন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন গ্রেড সমান করার দাবি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপাত্র মো. নজরুল ইসলাম রনি বলেন, ‘শিক্ষক দিবসে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের ১৫ দফা দাবি তুলে ধরে বৈষম্যের নিরসন চাইবো সরকারের কাছে।’
নজরুল ইসলাম রনি জানান, শিক্ষকসমাজের ঐক্যবদ্ধ সমাবেশ থেকে দাবি আদায়ের ঘোষণা দেওয়া হবে। বৈষম্য নিরসনে আল্টিমেটাম দিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে শিক্ষক দিবসে।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা চরম আর্থিক কষ্টে দিন যাপন করছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অভিভাবকরা ছাত্রদের টিউশন ফি পরিশোধ করছে না। ফলে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের প্রাপ্ত পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিভাবকদের সমস্যা আরও প্রকট, তাদের কাজ-কর্ম বন্ধ থাকায় তারাও তাদের ছেলে-মেয়েদের টিউশন ফি পরিশোধ করতে সক্ষম নন।
গত চার মাস ধরে শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন থেকে বঞ্চিত। করোনা মহামারি শিক্ষকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থাকে ক্রমশ দুর্বিষহ করে তুলেছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা বেঁচে থাকার জন্য অনেকেই পেশার পরিবর্তন করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিক্ষকরা তাদের দাবি তুলে ধরবেন বলেও জানানো হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
শিক্ষকদের ১৫ দফা দাবি
১) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শিক্ষা দর্শন বাস্তবায়ন করতে একমুখী শিক্ষা এবং অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে হবে।
২) শিক্ষক-কর্মচারীরা অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা সঠিক হিসাব ও সঠিক সময়ে পাচ্ছেন না তার ব্যবস্থা করতে হবে।
৩) শিক্ষকদের বদলি প্রথা চালু করতে হবে।
৩) ২৫ শতাংশ ঈদ বোনাস দীর্ঘ ১৬ বছরেও পরিবর্তন হয়নি, দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে।
৪) এক হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ায় বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এর উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
৫) সরকারি শিক্ষকদের সমান করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড দিতে হবে ।
৬) ক্ষেত্রে বিশেষে শিক্ষকদের ওপর ম্যানেজিং কমিটির জুলুম-নির্যাতন বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে।
৭) এমপিওভুক্ত প্রধান শিক্ষকদেরকে ষষ্ঠ গ্রেড দিতে হবে।
৮) অষ্টম গ্রেডের বেতন বৈষম্য থেকে শিক্ষকদের রক্ষা করতে হবে।
৯) ছাত্র ও অভিভাবকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন পরিশোধ করতে চায় না, এই সমস্যা সমাধান করতে হবে।
১০) বেতন বৈষম্য দূর করতে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ করতে হবে।
১১) এমপিওভুক্তিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
১২) প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় ফেরত নিলে জাতীয়করণে খুব বেশি অর্থ ব্যয় হবে না, তাই শিগগিরই জাতীয়করণের ঘোষণা দিতে হবে।
১৩) শিক্ষকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।
১৪) প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি কমাতে হবে।
১৫) নিয়োগ বাণিজ্য ও ম্যানেজিং কমিটির অবৈধ ও অনৈতিক প্রভাব বন্ধ করতে হবে হবে।







