মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান সহকারী গ্রন্থাগারিক নিয়োগ বন্ধে ৩ মাসের স্থগিতাদেশ জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ২০১৮ সালের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) শিক্ষাগত যোগ্যতায় সমমান না রাখা কেনও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারি করেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. ওবায়দুল হাসান এবং বিচারপতি এ.কে.এম জহিরুল হক বেঞ্চ এই রুল জারি করে স্থগিত স্থগিতাদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮’ -এর ৩৫ নম্বর কলামে উল্লিখিত ‘সহকারী গ্রন্থাগারিক’ পদের নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতায় শুধু ফাজিল বা আরবি বিষয়ে অনার্স ডিগ্রি এবং গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে ডিপ্লোমা যোগ্যতা চাওয়া হয়। ফলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাধারণ বিষয়ে স্নাতক বা অনার্স পাস করা গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে ডিপ্লোমাধারীরা নিয়োগ বঞ্চিত হন।
এ কারণে সাধারণ শিক্ষিত ডিপ্লোমাধারীদের পক্ষ থেকে উক্ত নীতিমালার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে বরগুনার মো. আউয়াল, পটুয়াখালীর জি. এম. আমিনুল ইসলাম, জয়পুরহাটের আবু বক্কর সিদ্দিক, বরিশালের মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৪০জন ডিপ্লোমাধারী হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন।
রিটে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট চার জনকে বিবাদী করা হয়। রিটে বাদী পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
ব্যারিস্টার সৈয়দ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রিটের শুনানি শেষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতায় সমমান না রাখা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে চার সপ্তাহের রুল জারি করেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া তিন মাসের স্থগিত রাখার আদেশ দিয়েছেন আদালত।’
ভুক্তভোগী রিটকারীরা জানান, সহকারী গ্রন্থাগারিক পদটি একটি সার্বজনীন পদ। তাই এর নিয়োগে সমমান ছাড়া অন্য কোনও যোগ্যতা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নীতিমালাতে শুধু মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিগ্রিধারীদের সুযোগ একটা বৈষম্যমূলক এবং পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত। এতে দেশের হাজার হাজার সাধারণ শিক্ষিতদের বঞ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত আমাদের মামলার পক্ষে রুল দিয়েছেন এবং তিন মাসের স্থগিত আদেশ দেওয়ায় আমরা আশান্বিত। আদালতের মাধ্যমে আমরা দ্রুত আমাদের ন্যায্য দাবি ‘সমমান যোগ্যতা’ ফিরে পাব বলে আশা করি।’








