আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস ফেডেক্সের মাধ্যমে নিষিদ্ধ মাদক অ্যামফিটামিন পাউডার পাঠানো হচ্ছিলো অস্ট্রেলিয়ায়। বাংলাদেশ থেকে হংকং হয়ে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর সময় শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ থেকে সাড়ে ২৪ কোটি টাকা মূল্যের অ্যামফিটামিন পাউডার জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় ছয় জনকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আটক করা হয়।
আটক ছয় জন হলেন- বাংলাদেশ এক্সপ্রেস লিমিটেড এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (অর্থ) খন্দকার ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ (৫০) ও সিনিয়র ম্যানেজার (অপারেশন) রাসেল মাহমুদ (৩২)। ইউনাইটেড এক্সপ্রেস এর জেনারেল ম্যানেজার গাজী শামসুল আলম (৪৩)। ইক্সপোর্ট কার্গোর ভেতরে এমজিএইচ গ্রুপের লোডিং সুপারভাইজার কাজল থুটোকিশ গোমেজ, কার্গো হেলপার/লোডার মো. হামিদুল ইসলাম (৩০) ও মো. নজরুল ইসলাম। এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফকরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার। তবে নিষিদ্ধ এই মাদক কোথায় থেকে বাংলাদেশে এসেছে তা বলতে পারেননি মহাপরিচালক। বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর বলছে, এই মাদকসহ কোনও মাদকই বাংলাদেশে উৎপাদন হয় না। এই মাদক কোনও না কোনোভাবে বাংলাদেশে এসেছে, যার গন্তব্য ছিল হংকং হয়ে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। প্রাপক: দাস সিং ৩৪ কলম্বিয়া রোড, মেলবোর্ন নারে ওয়ারেন লিআইসি ৩৮০৫। এই মাদক চোরাচালানের পেছনে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নেপচুন ফ্রেইট লিমিটেড এর উত্তরার আশকোনায় একটি অফিস রয়েছে এবং ওই অফিসের রুবেল হোসেন নাসের এক ব্যক্তি ওই সাতটি কার্টনে তৈরি পোশাক-জিন্সের প্যান্ট অস্ট্রিলিয়ায় প্রেরণের জন্য ইউনাইটেড এক্সপ্রেস লিমিটেড এ বুকিং দিয়ে যায়। বনানীর ইউনাইটেড ফ্রেইটের পরামর্শক্রমে ইউনাইটেড এক্সপ্রেস লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো নেপচুন ফ্রেইট লিমিটেড এর ওই সাতটি কার্টন গ্রহন করে বলে জানা যায়। পরবর্তীতে ইউনাইটেড এক্সপ্রেস লি. কার্টনহুলো বাংলাদেশ এক্সপ্রেস লি. (ফেডেক্স) এ প্রেরণ করে। ফেডেক্স তার হাব-এ সংরক্ষণ করে এবং কার্গো ভিলেজে প্রেরণ করে। কার্গো ভিলেজে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন জি এমজিএইচ নামেয় কোম্পানির এয়ার অপস টিম কার্টনগুলো কার্গো ভিলেজে হ্যান্ডল করে।
এই আন্তর্জাতিক পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় প্রদান করা হবে না বলে জানিয়েছেন অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার। তিনি বলেন, 'আমরা বাংলাদেশে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর ওপর নজরদারি রাখছি। কেউ যাতে কোনোভাবে মিথ্যে তথ্য দিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসকে ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে মাদকের চোরাচালান করতে না পারে।'








