আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর এর আগে বহুবার হামলা হয়েছে। এই হামলাকে ধারাবাহিক হামলা বলে মন্তব্য করেছেন আহমদিয়া মুসলিম জামায়াতের নেতারা। ব্যক্তিগতভাবে হামলার শিকার না হলেও তাদের প্রতিষ্ঠান ও মসজিদে আরও হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে ‘বাংলাদেশ আহমদিয়া মুসলিম জামায়াতের কল্যাণবিষয়ক’ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আব্দুস সামাদ বলেন, আমাদের ওপর অতীতেও এ ধরনের হামলা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই হামলা। তবে আগের হামলার চেয়ে এই হামলা ভয়ঙ্কর। কারণ এটি গুপ্তহত্যা। মুষ্টিমেয় লোক এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটাচ্ছে। তারা আপনার পাশে বসেই আপনাকে চাকু মেরে চলে যাবে। কেউ টেরও পাবে না। তিনি বলেন, এর আগে ১৯৯৯ সালে খুলনায় বোমা মেরে আমাদের সম্প্রদায়ের সাতজনকে হত্যা করা হয়েছে। ২০০৩ সালে যশোরে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া, অনেক হামলার শিকার হয়েছি আমরা। আমাদের মসজিদে ঢিল ছোড়া হয়। কিন্তু আমরা কোনও প্রতিবাদ করতে পারি না। তবে আগের আক্রমণ ছিল ভিন্ন।
রাজশাহীর বাগমারায় মসজিদের হামলার বিষয়ে জানতে চাইরে তিনি বলেন, আমাদের সৈয়দপুরের জামায়াতের প্রেসিডেন্ট এসএম সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়েছে। জ্যাকেট পরিহিত এক যুবক নামাজের কথা বলে মসজিদে প্রবেশ করেন। সামনের কাতারেই তিনি ছিলেন। এক রাকাত নামাজ শেষ হওয়ার পরে সে জ্যাকেটের ভেতরে হাত দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আমাদের দশ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন হাসপাতালে ভর্তি। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। যিনি ওই যুবকের পাশে ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমরা অনুরোধ না করলেও পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত তৎপর থাকে। তবে এত মানুষকে এক-একজনকে আলাদাভাবে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়।
আহমদিয়া এই নেতা বলেন, আমরা বাংলাদেশিরা ধর্মপরায়ণ তবে ধর্মান্ধ নই। তাই এদেশে কেউ বড় ধরনের নাশকতা চালাতে পারবে না। যারা এগুলো করছে তাদের সংখ্যা খুবই কম। তাই তারা এক সময় শেষ হবে। তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারলে অন্যরা ভয় পাবে। তাহলে এ ধরনের নাশকতা আর কেউ করবে না।
সারাদেশে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ১৫০টি মসজিদ রয়েছে উল্লেখ করে আব্দুস সামাদ বলেন, আমাদের কেন্দ্র থেকে মসজিদগুলোয় নির্দেশনা দেওয়া আছে। অপরিচিত যে কাউকে মসজিদে প্রবেশের আগে তল্লাশি করা হয়। কিন্তু একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে, তা আমাদের ধারণা ছিল না। তাছাড়া, নামাজের কথা কেউ বললে তাদের বাধা দেয় কিভাবে? ঢাকা থেকে তাদের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বলেও জানান তিনি।
/এমএনএইচ/








