আত্মহত্যায় উদ্ধত এক ব্যক্তিকে গাছের মগডাল থেকে নামিয়ে নিয়ে এসেছেন ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা। তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে কাওলা সিভিল অ্যাভিয়েশন স্টাফ কোয়াটার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি সিভিল অ্যাভিয়েশনের গাড়িচালক।
কুর্মিটোলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. সফিকুল ইসলাম জানান, সিভিল অ্যাভিয়েশন স্টাফ কোয়ার্টারের পাশে বড় একটি আম গাছের ডালে মো. বাবুল মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তি ওঠেন। তিনি ডালের সঙ্গে রশি বেধে গলায় ফাঁস দিয়ে আতহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। খবর পেয়ে কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বাবুল মিয়াকে কৌশলে বুঝিয়ে গলার রশি খুলে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরবর্তী সময়ে তাকে বিমানবন্দর থানা পুলিশ এবং স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায়।
বিমানবন্দর থানার এস আই মো. মাহবুব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাবুল মিয়া সিভিল অ্যাভিয়েশনের গাড়ি চালক। তিনি মাদকাসক্ত। বর্তমানে সিভিল অ্যাভিয়েশন স্টাফ কোয়ার্টারে বোনের সঙ্গে থাকেন। মাদকাসক্ত হওয়ায় দুই বছর আগে তার স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে যান। বাবুল মিয়াকে একাধিকবার রিহ্যাবে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি মাদক ছাড়তে পারেননি। শুক্রবার সকালে তাকে রিহ্যাবে পাঠানোর জন্য পরিবার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তিনি যেতে চান না। পরে তাকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন তার বোন। অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানো হয় তাকে। এর কিছুক্ষণ পর তিনি একটি আম গাছে ওঠেন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে। আমরা খবর পেয়ে যাই। কিন্তু কিছু করতে পারছিলাম না। পরে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দিয়ে তাদের সহায়তায় নামিয়ে নিয়ে আসি তাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাবুল মিয়াকে বুঝিয়ে শুনিয়ে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে এসেছি। পরিবারকে তার প্রতি আরও যত্নশীল এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি।’
বাবুল মিয়ার ভাই মো. সেলিম জানান, তার ভাইকে মাদকমুক্ত করতে তারা চেষ্টা করছেন। কিন্তু তারা পারছেন না। বাবুলের দুই ছেলে মেয়ের জন্য তাকে সুস্থভাবে বাঁচার প্রয়োজন বলেও তিনি জানান।








