ভ্যাপসা গরম আর থেমে থেমে বৃষ্টির এই আপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে। এরপর বইবে শীতের হাওয়া। অক্টোবরের শেষ নাগাদ মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। সাধারণত জুন থেকে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকাল ধরা হলেও এবার মৌসুমী বায়ুর প্রভাব থাকছে অক্টোবর পর্যন্তই।
আবহাওয়া অধিদফতরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘গত কয়েকবছর ধরেই আবহাওয়ার এই পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। আগে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পযন্ত বর্ষাকাল থাকলেও এখন তা অক্টোবরে গিয়ে শেষ হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব একটি বড় বিষয়। আগে বাংলাদেশে ছয়টি ঋতু যেভাবে বোঝা যেত এখন আর তা বোঝা যায় না। গ্রীষ্ম, বর্ষা আর শীতকালই অনুভব করি আমরা। হেমন্ত আর শরতের আভাস অনেক অনেক কম এখন।’
তিনি বলেন, গত কয়েক বছরের আবহাওয়া বিশ্লেষণ করলে এই তথ্য আরও ভালোভাবে বোঝা যায়৷ খুব ধীরে ধীরে বড় হয়ে যাচ্ছে বর্ষাকাল। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বর্ষার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ভাদ্রের ভ্যাপসা গরম। মৌসুমি বায়ুর বিদায় বেলায় টানা বৃষ্টি না হওয়া, বাতাসে জ্বলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই মূলত এর জন্য দায়ী। এদিকে এই গরম বৃষ্টির কারণে লঘুচাপ সৃষ্টির প্রবণতাও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়, চলতি মাসে এসব লঘুচাপের কোনও কোনোটি শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে৷ গত সেপ্টেম্বরেও বেশ কয়েকটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে কোনোটিই শক্তি সঞ্চয় করতে পারেনি। মূলত ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে আবহাওয়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। তাই ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়ার বিরূপ আচরণের বিষয়ে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কথা তো আমরা বলে আসছি অনেক আগে থেকেই। আর আজকের এই পরিস্থিতির বিষয়ে আমরা বহু আগেই সাবধান করেছিলাম।’
চলতি বছরের ঘূর্ণিঝড় আম্পান, কয়েক দফায় বন্যা এবং বন্যা স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘প্রতিবছরই আমরা বেশ কয়েকটি লঘুচাপ এবং এসব লঘুচাপের মধ্যে কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে দেখি৷ এসবের কারণে আবহাওয়া বেশ অস্থির আচরণ করছে। আমরা পূর্বাভাস দিচ্ছি ঠিকই। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে কিন্তু তারপরও সাধারণ মানুষ তো ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এবার গত বছরের তুলনায় বৃষ্টির পরিমাণ গড়ে কিছুটা বেশি হয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরে টানা বৃষ্টি না হওয়াতে মাটিতে পানি পড়ার আগেই না টেনে নিয়েছে মাটি। ফলে গরমের অনুভূতি কমেনি। টানা বৃষ্টির সময় কিন্তু এত গরম লাগে না।’
দীর্ঘমেয়াদি এই বন্যার বিষয়ে আবহাওয়ার পাশাপাশি নদী দূষণকেও দায়ী করছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার। তিনি বলেন, নদীর পাড়গুলো দখলের কারণে নদী তার স্বাভাবিক বয়ে চলার গতি হারাচ্ছে। এতে যখন উজান থেকে পানি আসছে নদীর দুই পাড়ের এলাকাগুলো প্লাবিত হচ্ছে। শুধু প্লাবিত হচ্ছে তা নয়, পানি নামতেও অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। তাই বন্যা হয়ে যাচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি। আমাদের নদীগুলোর যত্ন নিতে হবে। নদী দূষণসহ সব ধরনের দূষণ বন্ধের কোনও বিকল্প নেই বলে তিনি বলেন।








