যৌন হয়রানির মামলার রায়ে মাগুরার দৃষ্টান্ত অনুসরণের আহ্বান

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৪ অক্টোবর ২০২০, ১৬:১২আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২০, ১৬:১৪

আইন ও সালিশ কেন্দ্র যৌন হয়রানির মামলার রায় ঘোষণার সময় প্রতীকী নাম ব্যবহারের যে দৃষ্টান্ত মাগুরা জেলা জজ আদালত স্থাপন করেছেন, তা অনুসরণের জন্য বিচার বিভাগকে আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

রবিবার (৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনটির নির্বাহী কমিটির মহাসচিব মো. নূর খান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে মাগুরা জেলা জজ আদালতের সংশ্লিষ্ট বিচারককে সাধুবাদ জানিয়ে সেই দৃষ্টান্ত অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়। 

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের বিবৃতিতে বলা হয়, মাগুরা জেলা জজ আদালতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান বিচারপ্রার্থী এক কলেজছাত্রীর প্রকৃত নাম প্রকাশ না করে প্রতীকী নাম উল্লেখ করে গত ২৮ সেপ্টেম্বর একটি মামলার রায় ঘোষণা করেন। তার এ রায় বিচারের ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তার এমন সময় উপোযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছে। আসক মনে করে, তার প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করে নারীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক সুরক্ষা, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিচারব্যবস্থা আরও বেশি জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবে।

একান্ত ব্যক্তিগত ছবি সংরক্ষণ ও প্রচারের অভিযোগে ২০১৭ সালে এক কলেজছাত্রীর দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণাকালে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারপ্রার্থী কলেজছাত্রীর নাম প্রকাশ না করে প্রতীকী নাম দেন ‘কল্প’ এবং সেই নাম উল্লেখ করে মামলার রায় ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় এই ধরনের রায়ের কোনও নজির নেই। দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকারকর্মীরা আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নারীর প্রকৃত পরিচয় ও নাম ব্যবহার না করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এ রায় সেক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে একটি বড় অগ্রগতি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় নানা ক্ষেত্রে নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান সত্ত্বেও এখনও যেকোনও যৌন সহিংসতা বা হয়রানির ঘটনায় নারীর দিকেই আঙ্গুল তোলা হয়। তাকেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়। বিচার পাক বা না পাক, সারাজীবন ভুক্তভোগী নারী নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা বা হেনস্তার শিকার হন। সহজ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়াটা প্রায়শ অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। অনেককে মানসিক এ নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতেও দেখা যায়। অধিকাংশ নারী ও তাদের পরিবার এমন সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আইনের আশ্রয় নিতে ইচ্ছুক হন না। এ ধরনের সমাজব্যবস্থায় এমন একটি রায় নিঃসন্দেহে নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটালো এবং নারীর মানবাধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় আরেকটি মাইলফলক যোগ করলো। আসক আশা করে, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন রায় হিসেবে নয় বরং এ দৃষ্টান্ত দেশের বিচারব্যস্থায় দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হবে।

 

/জেইউ/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম