নকল এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকের দায়ের করা মামলার আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পুলিশের ইমিগ্রেশন বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলওয়ার বখত সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাস্ক কেলেঙ্কারির আসামিরা বিদেশে পালাতে পারেন, এমন তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশের ইমিগ্রেশন শাখায় চিঠি পাঠানো হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, নকল এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহের অভিযোগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. নুরুল হুদা সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জেএমআই হাসপাতাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের সাবেক উপ-পরিচালক ডা. জাকির হোসেন, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. শাহজাহান, ডেস্ক অফিসার জিয়াউল হক ও সাব্বির আহমেদ, জ্যেষ্ঠ স্টোর কিপার মো. ইউসুফ ফকির ও স্টোর অফিসার কবির আহমেদকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর ওই দিনই রাজ্জাককে সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে দুদক। আদালত থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে গত রবিবার থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
দেশজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ৫০ লাখ এন-৯৫ মাস্কের কার্যাদেশ দিয়েছিল জেএমআই হাসপাতাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডকে। এর মধ্যে কয়েক দফায় ২০ হাজার ৬১০টি মাস্ক সরবরাহ করে জেএমআই। সেগুলো ১০টি প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করার পর মাস্কগুলো নকল বলে ধরা পড়ে।
উল্লেখ্য, গত ১০ জুন কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় নিম্নমানের ও নকল মাস্ক সরবরাহ, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ক্রয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এরই ধারাবাহিকতায় জেএমআই ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের সাত জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।







