নোয়াখালীর গৃহবধূকে নির্যাতনের ভিডিও দৃশ্য ও লিংক ফেসবুক থেকে সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা এখনও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিতে না এলেও কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে লিংক বন্ধ করার কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে ১৮-২০টির মতো লিংক ব্লক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া উইং) জাকির হোসেন খাঁন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ওই ভিডিওর কিছু লিংক এরইমধ্যে ব্লক করা হয়েছে। ফেসবুক, ইউটিউবে যদি আরও লিংক পাওয়া যায়, তাহলে সেগুলোও ব্লক করা হবে। টিম কাজ করছে।’
জানা যায়, ঘটনার দৃশ্য ফেসবুকে আসার পরপরই বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ফেসবুককে নোটিশ করা হয়। ফেসবুক তার সিস্টেম থেকে লিংক সরানো শুরু করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যে ভিডিও দৃশ্যের কথা বলা হচ্ছে, তা আদতে ফেসবুক প্ল্যাটফরম সাপোর্ট করে না। তারপরও এটা ভাইরাল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, মূল ভিডিওটা ৩ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের। এটা এখন ৩-৫টি পদের ভিডিও ক্লিপ হয়েছে। অনেকে এটাকে ভেঙে ৪৮ সেকেন্ড, ৪৫ সেকেন্ডের ক্লিপ তৈরি করেছে। ফলে এখনও অজস্র লিংক ফেসবুক ও ইউটিউবে রয়ে গেছে। এসব লিংক দেখলেই ফেসবুককে রিপোর্ট করা উচিত। তাহলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ লিংক বন্ধ করতে উদ্যোগী হবে। যদিও তিনি মনে করেন, সব লিংক ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে সরানো বা ব্লক করা সহজ হবে না। কারণ, এগুলো দ্রুত কপি হয়, শেয়ার হয়।
উল্লেখ্য, স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় ছেলেমেয়েকে নিয়ে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুরে বাবার বাড়িতে থাকতেন ওই নারী। ১০ বছর পর গত ২ সেপ্টেম্বর স্বামী তার কাছে এলে দেলোয়ার বাহিনীর ক্যাডাররা দরজা ভেঙে ওই নারীর ঘরে ঢোকে। এরপর তারা ওই নারীর স্বামীকে পাশের রুমে বেঁধে রেখে ওই নারীকে বিবস্ত্র করার পর ভিডিও ধারণ করে। এরপর থেকে ওই নারী এলাকাছাড়া হয়ে পালিয়ে থাকলেও তাকে মোবাইল ফোনে নানা ধরনের হুমকি ও কুপ্রস্তাব দিতো দেলোয়ার বাহিনী। তিনি ফিরে না আসায় গত ৪ অক্টোবর সেই ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করে দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে পুলিশ ও র্যাব তাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামে। এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি মোট ৯ জন। এদের মধ্যে ৪ জনসহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।








