বগুড়ার শিবগঞ্জে চককানু গ্রামে শিয়া মসজিদে বন্দুকধারীদের হামলার পর এক মাস পার হয়ে গেলেও এই ঘটনার তদন্তে কোনও অগ্রগতি নেই। পুলিশের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি এখনও প্রতিবেদন জমা দেয়নি। তদন্ত দলের প্রধান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তদন্তের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে মামলার স্বার্থে এ মুহূর্তে তা প্রকাশ করা হবে না।
গত ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় বন্দুকধারীরা চককানু গ্রামে মসজিদ-ই-মোস্তফায় মুসল্লিদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে নামাজরত মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন নিহত হন। ইমাম শাহিনুর ইসলাম, মুসুল্লি আবু তাহের ও আফতাব হোসেন আহত হন। এ ঘটনায় মসজিদের কোষাধ্যক্ষ সোনা মিয়া শিবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পুলিশ জেএমবির গায়েরে এহসার সদস্য আনোয়ার হোসেন, মাদ্রাসা ছাত্র জুয়েল মিয়া ও একটি কওমী মাদ্রাসার পরিচালক শামসুল আলমকে গ্রেফতার করে। পুলিশ আনোয়ার ও জুয়েলকে সাতদিন করে এবং শামসুল আলমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও কোনও তথ্য বের করতে পারেনি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া ছাড়াও পুলিশের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছেন। তারাও আজ পর্যন্ত তদন্তের কোনও ভাল ফলাফল সাংবাদিকদের জানাতে পারেননি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলা সম্ভব নয়। এ হামলার ঘটনায় গ্রেফতার মোট ছয়জন জেলে আছেন। তবে অন্য তিনজনের নাম তিনি প্রকাশ করতে রাজি হননি।
পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল দাবি করেন, তাদের তদন্তে শিয়া মসজিদে হামলা মামলার অনেক অগ্রগতি হয়েছে। শিগগিরই তাদের তদন্ত রিপোর্ট দাখিল এবং এ ব্যাপারে মিডিয়াকে ভাল খবর দেবেন।
শিবগঞ্জ থানার ওসি একেএম আহসান হাবিব জানান, শিয়াদের নিরাপত্তায় হরিপুর বাসস্ট্যান্ডে স্থাপিত পুলিশ ক্যাম্প প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শিয়াদের মধ্যে কোনও আতঙ্ক নেই।
এদিকে বগুড়ার শিয়া নেতা বাংলাদেশ ইমামিয়া জনকল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ আবু জাফর মণ্ডল ও সদস্য সচিব মোজাফফর হোসেন আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেও এখন অজ্ঞাত কারণে এড়িয়ে চলেন। তাদের দু’জন মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন বা সিম পরিবর্তন করেছেন। ফলে তাদের কোনও প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না। তারা এ হামলার জন্য শিয়া বিদ্বেষী কোনও জঙ্গি গোষ্ঠীকে দায়ী করতেন।
/এফএস/টিএন/








