দেশজুড়ে ধর্ষণ রোধে জোর প্রতিবাদ চলছে। প্রতিবাদের মাঝে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা বৃদ্ধি করে আইন সংশোধন করতে যাচ্ছে সরকার। তবে শুধু সাজা বৃদ্ধি করলেই ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ সমাজ থেকে কমে আসবে না বলে মনে করছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি ও ল’ কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান এবিএম খায়রুল হক।
রবিবার (১১ অক্টোবর) বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আইন-আদালতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পথচলার অভিজ্ঞতা থেকে শঙ্কা প্রকাশ করে এবিএম খায়রুল হক বলেন, মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখেও যে ধর্ষণ রোধ সম্ভব হবে, এমনটা নয়! হত্যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়ে যেমন সমাজ থেকে হত্যাযজ্ঞ রোধ সম্ভব হচ্ছে না, তেমনি সাজা বাড়ালেই ধর্ষণ রোধ সম্ভবপর হবে না।
তবে ধর্ষণ রোধে বিচারটি যদি দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়, তবেই এ ধরনের অপরাধ সমাজে কমতে শুরু করবে বলেও মনে করেন বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, ধর্ষণ রোধে মূলত আইনের প্রয়োগটি দ্রুততর হওয়া দরকার। এছাড়াও বর্তমানে যে আইন রয়েছে সেটিও যদি দ্রুততর সময়ের মধ্যে প্রয়োগ করা না যায়, তাহলে শাস্তির পরিমাণ বাড়িয়ে লাভ হবে না।
ধর্ষণ রোধে বিচার বিভাগের কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হলে বেশ কিছু জায়গায় সংস্কারের কথা জানালেন এবিএম খায়রুল হক। তিনি জানান, ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ দমনে উন্নত ও বিশেষ প্রশিক্ষণসম্পন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গঠন বা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) মতো পুলিশের কোনও বিশেষ শাখাকে দায়িত্ব হস্তান্তর, তাদের অপরাধ শনাক্তের বিষয়ে যাবতীয় উপকরণ সরবরাহ করা, যোগ্য প্রসিকিউশন গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের জনপ্রতি বিচারকদের ওপর মামলা নিষ্পত্তির হার বেশি। ফলে ধর্ষণের মতো অপরাধের বিচার বিলম্বিত হচ্ছে। এ কারণে ধর্ষণের সাজা যেটাই হোক, তা যদি দুয়েক মাসের মধ্যে কার্যকর (স্পিডি ট্রায়াল) করা যায়, তাহলে এর ওপর নির্ভর করবে দেশে অপরাধ দমন হবে কিনা।
আমাদের দেশের পাবলিক পরিবহনে, মার্কেটে কিংবা মেলার মতো জায়গাগুলোতেও নারীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাই সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে দ্রুততার সঙ্গে বিচার করতে পারলে এ অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে বলেও মনে করেন তিনি।








