মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তি ও শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক তোলার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিপক্ষে দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার তদন্ত এখনও শুরু হয়নি। এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা থানায় পৌঁছানোর পর পুলিশ তদন্ত শুরু করবে। তবে আদালতের নির্দেশনা এখনও থানায় পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছে শাহবাগ থানা পুলিশ।
বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক ওরফে মশিউর মালেক বাদী হয়ে ঢাকার সিএমএম আদালতে খালেদার বিরুদ্ধে রাষ্টদ্রোহের এ নালিশি মামলাটি দায়ের করেন। এরপর সিএমএম আদালতের বিচারক মো. আতিকুর রহমান বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে মামলাটির তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে শাহবাগ থানাকে নির্দেশ দেন আদালত।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক সোমবার সকালে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মামলা শুরুর ব্যাপারে তারা এখনও আদালতের নির্দেশনা পাননি। পেলে তারা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেবেন।
গত ২১ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না। খালেদা জিয়ার এসব বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সমালোচনার ঝড় ওঠে।
মামলার বাদী অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক আদালতকে বলেন,‘আসামির এ ধরনের বক্তব্য শহীদদের অবমাননাসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং এর ইতিহাসের নিন্দা, ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার জাতীয় অপরাধের শামিল। এ ধরনের বক্তব্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তাই রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দণ্ডবিধি ১২৩ (ক) ধারায় মামলাটি তিনি দায়ের করেছেন।
আদালতের নির্দেশনা কখন থানায় পৌঁছাবে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট মশিউর মালেক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আজ সোমবারের মধ্যেই এ নির্দেশনা থানায় পৌঁছানো হবে।
/এসএম/টিএন/








