মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকরভাবে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে কোস্ট গার্ড। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুমে ‘মা ইলিশ’ রক্ষার্থে ইলিশের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দেশের নির্দিষ্ট উপকূলীয় এলাকায় ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় মৎস্য অধিদফতর গত ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধসহ সারাদেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং কেনা-বেচা নিষিদ্ধ করে।বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কার্যকরভাবে ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২০’ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করে।কোস্ট গার্ডের দায়িত্বে থাকা এলাকায় জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং, মাইকিংসহ নানাভাবে প্রচারণা চালানো হয়।এছাড়াও অভিযান সফল করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে একক ও যৌথভাবে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পাঁচটি ঘাঁটি, ২৩টি ছোট-বড় জাহাজ এবং ৫৮টি স্থায়ী ও চারটি অস্থায়ী কন্টিনজেন্টের সদস্যরা শতাধিক কোস্ট গার্ড বোট ও ভাড়া করা সিভিল বোটের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন নদীতে টহলে নিয়োজিত ছিল।
কোস্ট গার্ড উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন নদ-নদীতে অভিযান পরিচালনা করে গত ২২ দিনে এক কোটি ৩৬ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও অন্যান্য অবৈধ জাল, ২০৪টি ইঞ্জিন চালিত কাঠের নৌকা ও আট হাজার ৪৬ কেজি অবৈধভাবে আহরিত মা-ইলিশ এবং ৫৬৮ জন জেলেকে অবৈধভাবে মাছ ধরার অপরাধে আটক করে।
জব্দ মালামালের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। পরে জব্দ করা জালগুলোকে স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট ও মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং জব্দকৃত মাছ স্থানীয় এতিম ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়। এছাড়াও আটক জেলেদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান ও জরিমানা করা হয়।
কোস্ট গার্ড আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, ডাকাতি দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি অবৈধভাবে মাছ আহরণ, জাটকা নিধন ও মা ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখবে।








