আন্তর্জাতিক তহবিলগুলো থেকে জলবায়ু তহবিল সংগ্রহে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির পরিচালিত ‘বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন-প্রশমন-অর্থায়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
টিআইবির জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন প্রকল্পের জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি ব্যবস্থাপক এম. জাকির হোসেন খান বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন। এই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বক্তব্য রাখেন।
গবেষণা প্রতিবেদনে জলবায়ু প্রশমন অর্থায়ন ও নীতি, কৌশল ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ৫টি সুপারিশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সুপারিশ গুলো হচ্ছে: অবিলম্বে প্যারিস চুক্তিতে প্রতিশ্রুত অনুদানভিত্তিক প্রশমন অর্থায়ন নিশ্চিতকরণে উন্নত রাষ্ট্রসমূহের ওপর বাংলাদেশের নেতৃত্বে স্বল্পোন্নত দেশসমূহের ঐক্যবদ্ধ কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে। জাতীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের সবুজ জলবায়ু তহবিলসহ আন্তর্জাতিক তহবিলসমূহে অভিগম্যতা অর্জনে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর পথ নকশা প্রণয়ন করতে হবে। কয়লা ও এলএনজির মতো জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক শক্তিতে বিনিয়োগ বন্ধ করে নবায়নযোগ্য খাতে বিনিয়োগ ও অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের অযৌক্তিক ব্যয় কমিয়ে সুলভে উৎপাদনে সরকারি প্রকল্পের ন্যায় বেসরকারি খাতে বিনিয়োগকারীদেরও একই ধরনের প্রণোদনা (কর অব্যাহতি এবং ক্যাপাসিটি চার্জ মুক্ত) প্রদান করতে হবে। বনায়ন ও বন্যপ্রাণী আবাস সংরক্ষণসহ বন ব্যবস্থাপনায় অগ্রাধিকারমূলক প্রশমন অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জলবায়ু প্রশমন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে প্রাক্কলিত প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা যোগানের পরিকল্পনার বিপরীতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই অর্থের মাত্র ৬ শতাংশ বা ১২ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা তহবিল আন্তর্জাতিক উৎস থেকে দেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুত ১৫ ভাগ প্রশমন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহে কোনো পথ নকশা না থাকা এবং কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে আন্তর্জাতিক তহবিলগুলো থেকে সরাসরি তহবিল সংগ্রহে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর অভিগম্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির রূপরেখা অনুসারে বাংলাদেশ এনডিসিতে জাতীয় প্রশমন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্যমাত্রার আলোকে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উপকূলীয় বনের সীমা বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সমন্বয়ে জলবায়ু প্রশমন সহায়ক প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও নবায়নযোগ্য শক্তি, বনায়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। কার্যক্রমের ধরনভেদে বিসিসিটিএফ হতে প্রদত্ত তহবিলের প্রায় ৫২ শতাংশ তহবিল (৩১৬ কোটি টাকা) বনায়ন ও বন ব্যবস্থাপনায়, ৩২ শতাংশ তহবিল (১৯৫ কোটি টাকা) নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে এবং ১৬ শতাংশ তহবিল (৯৮ কোটি টাকা) প্রশমন সংক্রান্ত অন্যান্য কাজে ব্যয় করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিবেশ সুরক্ষায় সাংবিধানিক অঙ্গীকার ও প্রশমনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে নবায়নযোগ্য উৎস হতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগ না করে উল্টো কয়লা ও এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।








