দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে থাকায় রাজধানীর সড়কে পথের কাঁটায় পরিণত হওয়া সেই বাগানবিলাস গাছের ডালপালা ছাঁটাই করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ফলে সড়কের জঞ্জালে পরিণত হওয়া ফুলের গাছগুলো ফের সৌন্দর্য্য বর্ধনে ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। এরইমধ্যে গাছগুলোতে নতুন পাতা গজানোর পাশাপাশ ফুলও ফুটতে শুরু করেছে। এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।
জানা গেছে, সড়ক বিভাজকের সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য ২০১৬ সালের জুনে বাগান বিলাস গাছ লাগানোর প্রকল্প গ্রহণ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর ১১ কিলোমিটার সড়ক বিভাজকে ফুলগাছ লাগানো হয়। সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে—গোলাপশাহ মাজার থেকে কাকরাইল নাইটিংগেল মোড়, বঙ্গবাজার থেকে শেরাটন হোটেল, মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগ মোড়, রমনা থানার সামনে থেকে সবজিবাগান এলাকা, গুলিস্তানের গোলাপশাহ মাজার থেকে ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড, বঙ্গবাজার থেমে মৎস্য ভবন এবং মতিঝিলের বলাকা চত্বর এলাকা।
প্রকল্পের আওতায় সড়ক বিভাজকে ফুলগাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর সুরক্ষায় লোহার গ্রিল দেওয়াসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়। এছাড়া প্রকল্পটির মাধ্যমে মন্ত্রিপাড়ার পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডে ১৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের ‘সবজিবাগান’ নামের একটি বাগান এবং ৫ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ করা হয়। এ নিয়ে গত ৩০ অক্টোবর ‘ফুল হয়ে গেল পথের কাঁটা!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলা ট্রিবিউন।
প্রকল্প বাস্তবায়নের পর দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করেনি সিটি করপোরেশন। প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকে প্রথম তিন বছর এর দায়িত্ব ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লিও ইন্টারন্যাশনালের। তখন প্রতিষ্ঠানটি এর রক্ষণাবেক্ষণ করতো। গত বছরের জুনে দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়ভার যায় ডিএসসিসির কাছে। এরপর থেকে সংস্থাটি এর প্রতি নজর রাখেনি। গাছের নীরব ডাকে সাড়া দেয়নি। কিছু কিছু ডাল বাড়ে এলোমেলোভাবে। বিভাজক ছেড়ে সড়কে উঁকি দিতে থাকে বেশিরভাগ বাগানবিলাস। সড়কের ওপর গাছগুলোর ডালপালা ছড়িয়ে পড়ে। এতে সড়কের সৌন্দর্য্যহানির পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। তাছাড়া যানবাহনসহ পথচারী চলাচলেও বিঘ্ন ঘটতো। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল আরোহীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এই বাগানবিলাস।
লিও ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী নুরুর রহমান ভূইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী আমরা তিন বছর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলাম। তখন বাগানে সুন্দর ফুল ফুটেছিল। এ কাজে গাছ বিশারদসহ দক্ষ মালিও ছিল। গাছে পানি দেওয়া, শাখা ছাঁটাইসহ যাবতীয় তদারকি আমরা করতাম। আমাদের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরও সিটি করপোরেশনের অনুরোধে কয়েকবার ডালপালা ছেঁটেছি। সম্প্রতি আবারও সবগুলো গাছের ডালপালা আমরা কেটে দিয়েছি। এখন আর এলোমেলো অবস্থায় কোনও গাছ নেই।’
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো কোথাও এখন আর সড়কের ওপর নুয়ে পড়া ডালপালা নেই। বাগানবিলাসের অতিরিক্তি ডালপালা কেটে ফেলা হয়েছে। ফলে আগের মতো সৌন্দর্য্য ফিরেছে সড়ক বিভাজকের বাগানবিলাস ফুলে।
জানতে চাইলে ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর সার্কেল) মুন্সি মো. আবুল হাসেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সড়ক বিভাজকের বাগানবিলাস গাছের ডালপালা কিছুটা সড়কের ওপর চলে আসে। আমরা সেগুলো কেটে ছোট করেছি। এখন থেকে নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে।’
সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে পাঠাও চালক কামরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এত দিন ধরে সড়ক বিভাজকে রোপণ করা বাগানবিলাস গাছগুলোর ডালপালা রাস্তার ওপর হেলে পড়ে থাকতো। মোটরসাইকেল চালানোর সময় হঠাৎ করে গায়ে আঘাত করতো। কিন্তু এখন ডালপালা কেটে দেওয়ার করণে অনেক সুন্দর লাগছে। সিটি করপোরেশন যদি এভাবে তাদের প্রতিটি কাজের তদারকি বাড়ায়, তাহলে নগরী অনেক সুন্দর থাকবে।’
আরও খবর: ফুল হয়ে গেল পথের কাঁটা!








